আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আর তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্র। বাংলার মানুষের রায়ে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে দিয়েছেন কোভিড মোকাবিলার কাজ। আর মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকবেন তাও সাজিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন না মদন মিত্র। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মদন মিত্র প্রথমে ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ক্রীড়ার সঙ্গে দায়িত্ব পান পরিবহণ দপ্তরেরও। ক্রীড়া এবং পরিবহণ দুই দপ্তরেই দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মদন মিত্র। কিন্তু মাঝে সারদা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় তাঁর। ফলে মন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। পরে সারদা কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। জেলেও কাটাতে হয় কয়েক বছর। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি থেকে ভোটে লড়াই করেন। কিন্তু অল্প ভোটে সেই সময় সিপিএমের দাপটে নেতা মানস মুখার্জির কাছে হার স্বীকার করতে হয় মদন মিত্রকে। তবে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের কামারহাটিতে যাতায়াত শুরু করে দেন তিনি। কামারহাটির মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে দেন তিনি। আর এবারের একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি থেকেই তৃণমূলের হয়ে ভোটযুদ্ধে নামেন মদন মিত্র। আর জিতেও যান। বিজেপির রাজু ব্যানার্জিকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে হারিয়ে দেন মদন মিত্র। মদনদার জয়ের পর থেকেই তাঁর অনুগামীদের আশা ছিল যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হয়তো নয়া মন্ত্রিসভায় মদন মিত্রকে জায়গা দেবেন। পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী হয়তো মদনদাই হবেন। তবে নয়া মন্ত্রিসভায় মদন মিত্রর নাম নেই। তবে একুশের ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ত্যাগের পর মন্ত্রী পদও ছেড়ে দেন শুভেন্দু। সেই সময় পরিবহণ দপ্তরের কাজ দেখভালের দায়িত্ব মদন মিত্রকে দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই থেকেই মদন মিত্রর অনুগামীদের আশা ছিল ভোটে জিতে দাদা ফের পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী হবেন। তবে মদন মিত্র তাতে আক্ষেপ করছেন না। তিনি এখন কামারহাটি এলাকায় কোভিড মোকাবিলার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। আর আগের মতোই সমস্ত কাজের লাইভ আপডেট তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দিয়ে যাচ্ছেন। মদন মিত্রর অনুগামীদের কথায়, ‘দাদা কামারহাটিতে ভোটে জিতছেন তা ঠিক কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে দাদা সবার হৃদয় জিতে নিয়েছেন। তাঁরা অপেক্ষায় রয়েছেন দিদির দ্বিতীয় মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণে যদি দাদার জায়গা হয়।’

জনপ্রিয়

Back To Top