বিভাস ভট্টাচার্য: এবার থেকে আর প্রতি সপ্তাহে একদিন করে নয়। মাসে মাত্র দু'দিন সাক্ষাৎ করা যাবে সংশোধনাগারে। করোনা সংক্রমণ রুখতে জেলের আবাসিকদের সঙ্গে তাঁদের পরিজনদের সাক্ষাতের সময় নিয়ে আপাতত এই নিয়ম চালু করতে চলেছে রাজ্য সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সোমবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে এই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের এক সিনিয়র অফিসার। এই দু'দিন সাক্ষাতের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বিচার করে দেখতে পারেন, আদৌ সাক্ষাতের সেরকম প্রয়োজন আছে কি নেই। 

ওই অফিসার বলেন, দেশ-সহ এই রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হচ্ছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি এই ভেবে যে কোনও কারণে সংশোধনাগারে যদি এটা ছড়িয়ে পড়ে তবে সেটা খুবই খারাপ হবে। কারণড় এখানে একই কম্পাউন্ডে অনেক লোক থাকেন। আর এই সংক্রমণটা আসতে পারে জেলের বাইরে থেকেই। বহু রোগীই উপসর্গহীন হয়ে থাকছেন। এরকম কোনও উপসর্গহীন রোগী যদি সংশোধনাগারে তার প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তবে তাঁর থেকে সংক্রমিত হতে পারেন বাকিরা। এমনকি সংক্রমিত হতে পারেন সেই আবাসিক, অন্য আবাসিকদের পরিজনরা এবং অবশ্যই কারাকর্মীরা। ফলে সবদিক খতিয়ে দেখেই সাক্ষাতের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতো হবে। 

গতবছর রাজ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত বেশ কিছু আবাসিকদের যেমন প্যারোলে ছাড়া হয়েছিল তেমনই বিচারাধীন আবাসিকরাও যাতে জামিন পায় সেবিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। যদিও এবছর এখনও ‌পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই অফিসার। তাঁর কথায়, সংশোধনাগারে যেহেতু বাইরের লোকের ঢোকার অনুমতি নেই তাই সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। সেরকম পরিস্থিতি হলে পরে ভাবা যাবে। তবে সতর্কতা হিসেবে প্রত্যেক কারাকর্মী বা আবাসিকদের মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য করোনা বিধি।

Back To Top