এঞ্জেলসের মুখ ফের ঢাকা পড়ল মাস্ক-এ

বাবলি চক্রবর্তী, লস এঞ্জেলস: মাত্র মাসখানেকের স্বস্তি।

ফিরে এল মাস্ক নিয়ে কড়াকড়ি। শনিবার থেকে মাস্ক ফের বাধ্যতামূলক হল লস এঞ্জেলসে। কারণ আবার করোনার প্রকোপ বাড়ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের আতঙ্কে কাঁপছে মানুষ। তাই আপাতত ইনডোরেও মাস্ক পরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কাউন্টি প্রশাসন। দোকানে, রেস্তঁরায়, অফিসে, কারও বাড়িতে বেড়াতে গেলে, সর্বত্রই মাস্ক পরতে হবে। এমনকি টিকার দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেলেও। গত ১৫ ই জুন সরকারিভাবে ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল - টিকা নেওয়া থাকলে প্রায় সব প্রকাশ্য স্থানে মাস্ক না পরেই যাওয়া যাবে। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, সারা দেশে যত নতুন সংক্রমণ ঘটছে, তার ৫৮% ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সান ফ্রান্সিসকোর জনস্বাস্থ্য দফতরও জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সেখানেও ফের যে কোনও দিন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। অথচ ক্যালিফোর্নিয়ায় টিকাদানের হার অত্যন্ত ভাল। ১২ বছরের উপর জনসংখ্যার ৬০%-এরও বেশি টিকার দুটি ডোজই নিয়ে নিয়েছে। তবু রোজই বাড়ছে সংক্রমণের ঘটনা। হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। যদিও গত জানুয়ারির তুলনায় তা কিছুই নয়। সেই সময় প্রতি এক লক্ষে ১১২ জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছিলেন। জুনে সেই সংখ্যাটা একেবারেই নেমে আসে। গত সপ্তাহে কিন্তু আবার বেড়েছে। 
৪ জুলাই গোটা আমেরিকা জুড়ে স্বাধীনতার উৎসবে মেতেছিলেন মানুষ। লং উইকএন্ডে অনেকেই বেরিয়ে পড়েছিলেন সপরিবারে, সবান্ধবে ছুটি কাটাতে পাহাড়ে, সমুদ্রে। মাস্ক নিয়ে কড়াকড়ি না থাকাতে উৎসবের মেজাজে লেগেছিল বাড়তি রং। তারপর থেকেই বিভিন্ন স্টেটে ঊর্ধমুখী করোনা গ্রাফ। এখনও পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেনি বটে, তবে আগাম সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। লস এঞ্জেলসে গড়ে প্রতিদিন ১৫০০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। তার উপর শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেখা যাচ্ছে, নতুন করে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন যারা, তাদের মধ্যে ৯৯% টিকা নেননি। তাদের জন্য বাকিরা বিপদে পড়ছেন, এ'নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকার থেকে বলা হচ্ছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যেহেতু চোখ রাঙাচ্ছে গোটা পৃথিবীতেই, তাই সাবধান হতেই হবে। এই প্রজাতির ভাইরাস অনেক দ্রুত ছড়ায়।
নিউ নর্মাল পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রায় সর্বত্র সবকিছু খোলা। কাজে হোক কি বেড়াতে, বেরনোর ব্যাপারে তেমন বিধিনিষেধ নেই। গ্রীষ্মের চমৎকার আবহাওয়ায় ঘরে থাকতে চাইছে না মানুষ। কিন্তু যে হারে বাড়ছে সংক্রমণ, তাতে সতর্ক না হয়ে উপায় নেই। গত শীতের দুঃস্বপ্ন যেন আর না ফেরে, সবার প্রার্থনা সেটাই।

আকর্ষণীয় খবর