.

অনাম্বর আদিত্য চৌধুরী: প্যারিস: ফ্রান্সে করোনা আপাতত কিছুটা ব্যাকফুটে।

গোটা দেশে নতুন সংক্রমণ আড়াই হাজারের আশেপাশে। অতএব খোলা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জুনে লক ডাউন ওঠার পর থেকেই ক্যাফে, পাব, রেস্তঁরায় ভিড়। সুরের উৎসব ফেট ডি লা মিউজিক দিয়ে শুরু হয়েছিল করোনা পরবর্তী উদযাপন। ২৬ শে জুন তুঙ্গে পৌঁছল প্রাইড মার্চের হাত ধরে। প্রতি বছর জুনের শেষ সপ্তাহান্তে হয় প্যারিস প্রাইড মার্চ। গত বছর অবশ্য করোনার কারণে হতে পারেনি। 
অন্য দেশেও প্রাইড মার্চ হয় এই সময়টায়, কিন্তু প্যারিসেরটা অন্যরকম। শুধুমাত্র সমকামী বা রূপান্তরকামী বা সঠিকভাবে বলতে গেলে LGBTQA দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সবাই সামিল হয়ে একে ভালবাসার উৎসবে পরিণত করে। সেখানে লিঙ্গভেদ একেবারেই নেই। সেদিন আমার বাঙালি ও ফরাসী বন্ধুদের সঙ্গে যখন পৌঁছলাম এগলিসে দ্য পান্তিতে, তিলধারণের জায়গা ছিল না। কে বলবে মাসখানেক আগেও করোনার ভয়ে কাঁপছিলাম সবাই। অনেকদিন পর মনে হল আসল প্যারিসের দেখা পেলাম। কারও দু'গালে রামধনু পতাকা আঁকা, কারও বা হাতে ধরা প্রাইড ফ্ল্যাগ। মিছিল করে চলেছে কয়েকশো রঙিন মানুষ। পথের দুধারে বাড়িগুলোর জানালা- বারান্দা থেকে হাত নেড়ে, পতাকা দুলিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে লোকে। কেউ আবার নিজের বাড়ির বারান্দায় মিছিলের সুরে-তালে নাচছে। ফরাসীরা স্বাধীনতাপ্রিয় জাতি। জীবনকে ইচ্ছেমত উপভোগ করায় বিশ্বাসী। তাই সবকিছু ভুলে এত তাড়াতাড়ি মেতে উঠতে পারে বাঁচার আনন্দে। 
সমীক্ষা বলছে, লকডাউনে লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘুদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে ফ্রান্সে। তাই প্রাইড মার্চকে আঁকড়ে ধরে যদি বাঁচার রসদ খুঁজে পান এঁরা, তাহলে ভাল। যেখানে শেষ হল মিছিল, সেই প্লেস ডি লা রিপাব্লিকে আছে মারিনের মূর্তি - লিবার্টি, ইকুয়ালিটি, ফ্র্যাটারনিটির জয়গান। ফরাসী বিপ্লব পরবর্তী স্বাধীনতা, সাম্য, সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক। সেই মূর্তির মাথায় সগৌরবে উড়ছে রামধনু পতাকা। কোভিডের ধূসর চাদর সরিয়ে যা আসলে জীবনের জয়গাথা।

আকর্ষণীয় খবর