.

সুচেতা সেনগুপ্ত: ২৮ জুন পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মালয়েশিয়ায়। করোনা সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়ে যাওয়ায় এছাড়া আর উপায় ছিল না। ১ জুন এই পর্যায়ের লকডাউন ঘোষণা হয়েছিল। গত মাসে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হতে রেকর্ড সংক্রমণ দেখা দেয়। এই ছোট্ট দেশে এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসেবে যে হাজার চারেক মৃত্যু হয়েছে করোনায়, তার এক তৃতীয়াংশই এই মে মাসে। দৈনিক সংক্রমণ সাত হাজার এর কাছাকাছি। সারা পৃথিবীর মতো এ ‌দেশেও অর্থনীতিতে যে বিরাট ধ্বস নেমেছে, তা সামাল দিতে আপাতত ১৭ টি ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ লোকই ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন। কারখানা বা অফিসে যাঁদের হাজিরা দিতে হচ্ছে, তাঁদের কাছে পাস রয়েছে। প্রতিটি মোড়ে পুলিশ। গাড়ি থামিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। যথেষ্ট প্রমাণ না দেখাতে পারলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ টাকা।
এই দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ মেনে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিধিনিষেধ জারি করে। সেসব মানার ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট কড়া। প্রতিটি পাবলিক প্লেসে, এমনকি মুদির দোকানে পর্যন্ত গেটে স্ক্যানার লাগানো। ঢোকার সময়ই যন্ত্র জানান দেবে আপনি হাই রিস্ক না লো রিস্ক। কারণ সকলের মোবাইলে রয়েছে সরকারি অ্যাপ। টিকাকরণ হয়েছে কিনা, প্রথম না দ্বিতীয় ডোজ, সব তথ্য সেখানে মজুত। আর এখানে নিজের পছন্দমতো টিকা নেওয়া যাবে না। অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা ফাইজার, সরকার যা বরাদ্দ করবে, তাই নিতে হবে। চলতি মাসে দেশের ভিতর ঘোরাঘুরি, সামাজিক অনুষ্ঠানে জমায়েত করা চলবে না। অফিসে কর্মী যত সম্ভব কম নিয়ে কাজ করতে হবে। 
এই লকডাউনের সুফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার কমেছে। বেড়েছে সুস্থতার হার। তবে সংক্রমণ কমার পিছনে টিকাকরণও কাজ করছে। প্রতিদিন দেড় লক্ষের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১২ শতাংশ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, জুলাইতে দৈনিক দুই থেকে আড়াই লক্ষ আর তারপর তিন থেকে চার লক্ষ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ধার্য্য করা হয়েছে। এর ফলে এই বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ৮০ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তৈরি হয়ে যাবে হার্ড ইমিউনিটি।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতির বড় অংশ পর্যটন নির্ভর। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসেন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে। লঙ্কাভি, পেনাং, বাতু কেভ ভরে থাকে পর্যটকে। বিশেষ করে ইউরোপের পর্যটকদের থেকে হোটেলগুলির আয় হয় বেশি। আর এই পর্যটন শিল্পই ধাক্কা খেয়েছে করোনার জন্য। অথচ ২০২০ সালে পর্যটনে নতুন ঢেউ আসবে বলে আশা করেছিল সরকার। কারণ তার আগের বছর থেকেই বিশেষ প্রচার চালানো হয়েছিল। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায়, এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন। তারপর তো সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সব বন্ধ হয়ে গেল। বর্তমানে অনেক ছোট ও মাঝারি হোটেল পুরোপুরি বন্ধই হয়ে গেছে। বিমানযাত্রীদের জন্য সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ঘর ভাড়া দিয়ে কত টাকাই বা রোজগার হয়েছে হোটেলগুলির!‌ শুধু তাই নয়, চাইনিজ, থাই, ভারতীয় খাবারের অনেক রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ কর্মীর হাতে কাজ নেই। তবে পর্যটন শিল্পে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে মালয়েশিয়া। আশা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।