পাস ছাড়া কোথাও ঢোকা যাচ্ছে না

অনাম্বর আদিত্য চৌধুরী: পাস সানিতেয়ার অর্থাৎ ভ্যাকসিন পাসপোর্ট।

শপিং মল বলুন কি সিনেমা হল, জিম বলুন কি বার- এটা না থাকলে ঢুকতেই পারবেন না। ফ্রান্সে এখন এটাই নিয়ম। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ গত ১২ জুলাই ঘোষণা করেছেন, এই পাস না দেখাতে পারলে পাবলিক প্লেসের দরজা বন্ধ। কী এই পাসপোর্ট? ফরাসী সরকার একটি অ্যাপ এনেছে - AntiCovid। সবাইকে ডাউনলোড করতে হয়েছে। টিকার দুটো ডোজ নেওয়া হলে যে সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রয়েছে কিউ আর কোড। সরকারি অ্যাপ খুলে তাতে এই কোড স্ক্যান করলেই আসবে পাস। যেকোনও জায়গায় ঢোকার সময় এই পাস দেখানো বাধ্যতামূলক। আগস্ট থেকে আরও কড়া হতে চলেছে নিয়ম।
নিয়ম মানেই কিছু লোক মানবে আর কিছু লোক প্রতিবাদ জানাবে। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে যারা টিকা নিতে চায় না, তারা ঝামেলা করছে। কিন্তু সরকার তার অবস্থানে অনড়। না হয়ে উপায় নেই। গত কদিনে ফ্রান্সে করোনা গ্রাফ ঊর্ধমূখী। গড়ে দিনে চোদ্দ হাজারের বেশি। আর এই নতুন সংক্রমণের ৯৬% টিকা না নেওয়া লোকেদের মধ্যে। 
প্যারিসের প্রাণশক্তি এত প্রবল যে এই বিধিনিষেধেও চেনা ছন্দে ঘাটতি পড়েনি। পাব থেকে এগজিবিশন, ভিড় সর্বত্র। ক্রমশ অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে ফোন খুলে পাস দেখানো। ১৪ই জুলাই বাস্তিল ডে উদযাপনে আতসবাজি আর কনসার্টের মূর্ছনায় কে বলবে, দুয়ারে ঘাপটি মেরে বসে আছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের আতঙ্ক। দলে দলে মানুষ পাস দেখিয়ে পৌঁছে গেছে আইফেল টাওয়ারের সামনে। তিলধারণের জায়গা ছিল না।
প্যারিস বিখ্যাত মিউজিয়াম আর এগজিবিশনের জন্য। গত বছর দেড়েক সময়ে সেটা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। আবার ফিরছে সেই ঐতিহ্য। সেদিন গেছিলাম একটা প্রদর্শনী দেখতে- ইজিপশিয়ান কালচারাল রেনেসাঁস ১৯৩০-৭০। নারীশক্তির জয়জয়কার। মনটা ভাল হয়ে গেল। যদিও করোনা আতঙ্ক এখনও ভালরকমই চেপে বসে আছে পৃথিবীর কাঁধে, তবু মাঝেসাঝে একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে পারলে মনে হয় বেঁচে আছি।

আকর্ষণীয় খবর