Durga Puja-Paris: মনকেমনের পুজো ,মৃন্ময়ী মায়ের আরাধনার আয়োজনে ব্যস্ত প্যারিসের বাঙালিরা। এই বছর উৎসাহ, উদ্দীপনা তুঙ্গে

অনাম্বর আদিত্য চৌধুরী: মা আসছেন।

কিন্তু আমরা প্রবাসীরা মাতৃভূমিতে, নিজের মায়ের কাছে ফিরতে পারছি না। সেই কষ্ট বুকে চেপে আপাতত মেতে উঠেছি পুজোর প্রস্তুতিতে। ভেবে দেখলাম, পুরো দায়টা কোভিডের ঘাড়ে চাপিয়ে লাভ নেই। মাস্ক পরা ছাড়া আর কোনও কোভিড সচেতনতা এখন আর ফ্রান্সে টের পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই-আগস্টে গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে যে যার কাজে ফিরেছেন। স্কুল, কলেজ, অফিস সব চলছে আগের মতোই। কাজের চাপ খুব। মাস্ক পরে ক্লাস নেওয়ার যে কী যন্ত্রণা, সেটা না হয় নাই বা বললাম। 
মৃন্ময়ী মায়ের আরাধনার আয়োজনে ব্যস্ত প্যারিসের বাঙালিরা। এই বছর উৎসাহ, উদ্দীপনা তুঙ্গে। গত বছর যা করতে পারিনি করোনার ভয়ে, এবার সবটা সুদে আসলে উসুল করে নেব। ইউরোপের  দুর্গাপুজোগুলোর মধ্যে সবথেকে পুরনো আমাদের এই প্যারিস সম্মিলনীর পুজো। ১৯৮৭ সালে শুরু হয়েছিল। শহর আর শহরতলি মিলিয়ে মোট আটটা পুজো হয় প্যারিসে। কিন্তু আমাদের পুজোতেই লোক হয় সবচেয়ে বেশি। ২০১৮-১৯ এও দেখেছি, সুইজারল্যান্ড থেকে পর্যন্ত দলে দলে বাঙালিরা আসতেন পুজোর ক'টাদিন। প্যারিসের হোটেলভাড়া যে যথেষ্ট বেশি, সবাই জানেন। কিন্তু বাঙালি পুজোর নামে পকেটের কথা ভুলে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। একটা কথা এখানে বলে রাখা ভাল, আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক শহরের মতো আমরা কিন্তু সুবিধেমত উইকএন্ড পুজোয় বিশ্বাসী নই। আমরা একেবারে নির্ঘণ্ট মেনে পাঁচদিন পুজো করি। পড়াশুনো, কাজকর্ম সব শিকেয় তুলে দিই ওই পাঁচটা দিন। গত বছরটা পারিনি। অন্য সববার দল বেঁধে প্যান্ডেল হপিং করি। অবশ্যই প্রেসিডেন্ট রুবি দত্তর নজর এড়িয়ে, খুব কড়া কিনা পুজোর কাজের ব্যাপারে! 
আসলে সম্মিলনী আমাদের যৌথ পরিবার হয়ে গেছে। বাড়ির পুজোর মত এই দুর্গাপুজো। মাসখানেক আগে থেকে নাটকের রিহার্সাল শুরু। আর তার সঙ্গে এন্তার পেটপুজো। লুচি, আলুর পরোটা, ছোলার ডাল, ঘুগনি, চচ্চড়ি, রবিবারে মাংস আর মিষ্টি- মহড়া মানেই ভুরিভোজ। আর কত যে মজার ঘটনা রিহার্সালে কী বলব!
এই নাটকের হুজুগটা না থাকলে বোধহয় জানতেই পারতাম না আমি নিজে মনেপ্রাণে কতটা বাঙালি। সারা বছর ফরাসী আর ইংরেজি কপচিয়ে বাংলা ভুলতে বসেছি। হঠাৎ একদিন রুবিদি ডেকে বললেন, নাটক লিখতে হবে। প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেলেও বসে পড়লাম লিখতে। হাসির নাটক। কিন্তু একটু পরেই বুঝলাম, সহজ নয় কারণ দীর্ঘ অনভ্যাসে মাঝেমাঝেই বাংলা শব্দ ভুলে যাচ্ছি। বারবার অভিধান দেখতে হচ্ছে। তাও হাল ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত লিখে ফেলেছি। প্রতি রবিবার রিহার্সাল হয় পার্কে। এই পার্ক তৈরি করেছিলেন তৃতীয় নেপোলিয়ন, ১৮৭৫ সালে। এর সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িত। রবিবার বেলা দেড়টা বাজতে না বাজতে আমরা হাজির হই সেখানে। রুবিদি আর বীথিমাসী মিলে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করেন। রীতিমতো পিকনিক যাকে বলে! মহড়া শুরুর আগেই পেটপুজো। তারপর খোশমেজাজে পার্ট বলা। সেই সঙ্গে মান-অভিমান, খুনসুটি, বকাঝকা চলতেই থাকে। এত আনন্দের মাঝেও ভিজে ওঠে চোখ। দেশের জন্য, পাড়ার জন্য, বাড়ির জন্য, মায়ের জন্য মনকেমন।

আকর্ষণীয় খবর