Kali Puja: রায়গঞ্জের মন্দিরে সাধক বামাক্ষ্যাপার উত্তরসূরিরাই প্রধান পুরোহিত

আজকাল ওয়েবডেস্ক: কুলিক নদীর পাড়ে রায়গঞ্জ শহরের বন্দর।

ছোট তিন রাস্তার মোড়ের কোণ ঘেসে আজও মাথা উঁচু করে রয়েছে আদি কালীর মন্দির। জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। শোল-বোয়ালের ঝোলে পঞ্চমুন্ডির বেদীতে পুজিতা হন দেবী। বংশ পরম্পরায় এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সাধক বামাক্ষ্যাপার উত্তরসূরিরাই। মন্দিরজুড়ে রয়েছে পুরনো ঐতিহ্য আর নিয়ম।M

একটা সময় ছিল যখন বণিকরা কুলিক নদী দিয়ে বাজরা নিয়ে বাণিজ্যে যেতেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ এখন। আর নেই রাজা। নেই রাজত্ব। নেই শাসন। নেই বণিক। সংকীর্ণ হয়েছে কুলিকের যাত্রাপথ। তবে প্রাচীন রীতি আর ঐতিহ্য মেনে সেই কুলিক পাড়েই বেশ কয়েক দশক ধরে পুজো হয়ে চলেছে আদি কালীর। রায়গঞ্জের বন্দরে দীপান্বিতার রাতে, পঞ্চমুন্ডির বেদিতে কষ্টিপাথরের মূর্তিতে পুজিতা হন মা। 

আরও পড়ুন: বলি দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন মা কালী, তাই শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত! 

কষ্টিপাথরের এই মূর্তি আনুমানিক প্রায় ২০০ বছর আগের। কী তারও বেশি। এই মন্দিরের ভেতরে পঞ্চমুন্ডির বেদির প্রতিষ্ঠাকাল। তা প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি বলে অনুমান। ভৈরব সাধক বামাক্ষ্যাপার উত্তরসূরিরাই এখনও এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। 

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রধান পুরোহিত মৃত্যুঞ্জয় চ্যাটার্জি বলেন, 'আনুমানিক প্রায় ১৪৭০ সালে পঞ্জাবের এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। তিনি হেটে কুলিক নদীর ধারে এই বন্দর এলাকায় পৌঁছে বট গাছের নিচে পঞ্চমুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বট গাছ আজও মন্দির প্রাঙ্গনেই রয়েছে। যা বহু ইতিহাসের সাক্ষী।'

সে সময় মায়ের কোনও মন্দির ছিল না। একদল ডাকাতেরা ওই আসনে মায়ের পুজো করত। পরে বাণিজ্য যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় ধনী ব্যবসায়ীরাও এই বেদিতে পুজো দিয়ে যেতেন। পরে আনুমানিক ১৮০৮ নাগাদ অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুরের মহারাজা তারকনাথ চৌধুরি মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে একটি মন্দির গড়ে তোলেন।  সাধক বামাক্ষ্যাপার উত্তরসুরী জানকী নাথ চ্যাটার্জিকে এই মন্দিরে পুজোর দায়িত্ব দেন।

আকর্ষণীয় খবর