আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌বিয়ের মরশুম চলে এসেছে। সবদিকেই বিয়ের জন্য সাজো সাজো রব। কিন্তু এরকম অদ্ভুত এবং আজব বিয়ে কেউ কোনওদিন দেখেওনি, শোনেনওনি। পাত্রী রক্তমাংসের মানুষ হলেও পাত্র অশরীরি। অন্তত এমনই দাবি করছেন আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা আমান্ডা টিগ। তাঁর দাবি, তিনি একজন ৩০০ বছরের পুরনো ভূতকে বিয়ে করেছেন। 
২০১৬ সালের জুলাই মাসে আমান্ডা টিগ দাবি করেন তিনি আইনতভাবে বিয়ে করেছেন ৩০০ বছরের পুরনো ভূত জ্যাক টিগকে। যিনি ১৭০০ সালে মারা গিয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, জ্যাক নাকি দারুণ যৌন সুখ দিতে পারে, আমান্ডা এর আগে কখনও এই অনুভূতি কোনও মানুষের থেকে পাননি।  ব্রিটেন বা আয়ারল্যান্ডে ভূতকে বিয়ে করার ঘটনা এর আগে কোনওদিন শোনা যায়নি। ৪৫ বছরের আমান্ডা দ্বিতীয়বার তাঁর ভূত স্বামী জ্যাককে বিয়ে করলেন ২০১৭ সালে ছোট্ট একটি বোটে।

মাঝসমুদ্রে এই বিয়ে করেন আমান্ডা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন আমান্ডার আত্মীয়–পরিজনরা। 
ভূতের প্রেমে পাগল আমান্ডা। শুরুটা হয়েছিল পর্দার জ্যাক স্প্যারো ওরফে জনি ডেপকে দেখে। জলদস্যুদের জীবনের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন আমান্ডা। এমনকী নিজের গায়ে স্প্যারোর মতো ট্যাটুও করিয়েছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে যে জলদস্যুর ভূতের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তার নামও জ্যাক। চার সন্তানের মা আয়ারল্যান্ডে নিজের শোওয়ার ঘরে একদিন শুয়ে ছিলেন। সেই রাতে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন ৩০০ বছরের পুরনো জলদস্যু জ্যাকের অশরীরি। প্রায় ছ’‌মাস তাঁদের দু’‌জনের মধ্যে নাকি শারীরিক সম্পর্কও হয়। এরপরই তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।  
আর দশটা স্বাভাবিক বৈবাহিক সম্পর্কের মতই আমান্ডা ও জ্যাক ঝগড়া করেন, সপ্তাহান্তে রোম্যান্টিক ড্রাইভে যান, এমনকী একে–অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তও কাটান।

আমান্ডা নিজের অশরীরি স্বামীর পদবিও গ্রহণ করেছে। আমান্ডা লার্জ এখন আমান্ডা স্প্যারো লার্জ। জলদস্যুদের মাঝখানের নাম স্প্যারো রাখা হত বলে জানা গিয়েছে।  আমান্ডা ও জ্যাক তাঁদের সংসার আয়ারল্যান্ডেই পাতবেন। ঘরও একটি কিনে নিয়েছেন আমান্ডা। এতে অবশ্য তাঁর অশরীরী স্বামী কোনও সাহায্য করতে পারেনি। তবে ঘর সাজাতে নাকি জ্যাকই সাহায্য করেছে। আর তার সঙ্গে সেখানেই বাকি জীবনটা কাটাতে চান আমান্ডা 
ব্রিটেন বা আয়ারল্যান্ডে আমান্ডার এই বিয়ে বৈধ না হলেও বিশ্বের বেশ কিছু দেশে মৃত ব্যক্তি বা আত্মার সঙ্গে বিয়েকে বৈধতা দেওয়া হয়। ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সেখানকার সরকার ১০০ জন মহিলাকে তাঁদের মৃত সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন। যাঁরা যুদ্ধের সময় নিহত হয়েছিলেন।  

 

 

 

বিয়ের কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হল।  
  


 

জনপ্রিয়

Back To Top