আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সাপ–মাথার মাছ। নামেও আজব, স্বভাবেও। আমেরিকার জর্জিয়ায় ঠ্যাটা বা রড দিয়ে মাছ শিকারী এক ব্যক্তি এই সাপ–মাথা বা স্নেকহেড মাছটি প্রথম দেখতে পান এমাসের শুরুতে গুইনেট কাউন্টির একটি পুকুরে। জর্জিয়া প্রাকৃতিক সম্পদ, বন্যপ্রাণ সম্পদ বিভাগের তরফে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার একথা জানিয়ে ওই মৎস্যজীবীকে ধন্যবাদ জানান বিভাগীয় মুখপাত্র ম্যাট টমাস। তিনি বলেছেন, ওই মৎস্যজীবীর বার্তা পেয়েই তাঁদের কর্মীরা ওই পুকুরে গিয়ে তদন্ত করে নিশ্চিত হন সেখানে ওই প্রজাতির মাছের অস্তত্ব নিয়ে।
প্রাণীবিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা সরু আকার, কালচে খয়েরি রং–এর স্নেকহেড মাছ প্রায় তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ওজন প্রায় ১৮ পাউন্ড। মুখে সরু, তীক্ষ্ণ দাঁতের সারি। এরা টানা চার দিন মড়ার মতো পড়ে থেকে ডাঙাতেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে এবং খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে পারে যদি কোনও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় থাকে। খরার সময় মাটির ভিতর ঢুকে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারে এরা। সাধারণত যে জলাশয়ে এরা জন্মায় সেখানের প্রাণীজগতের পক্ষে ক্ষতিকারক হয় এরা। কারণ এদের খাবার ছোট মাছ, কীটপতঙ্গ থেকে ছোট ইঁদুর, উভচর প্রাণী। পুষ্টিদায়ক খাদ্য হিসেবে আমেরিকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় এই মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু ২০০২ সালে আমেরিকার মৎস্য এবং বন্যপ্রাণ পরিষেবা দপ্তর স্নেকহেড মাছকে বন্যপ্রাণের পক্ষে হানিকারক হিসেবে ঘোষণার পর তা বন্ধ হয়।  
টমাস বলেছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছেন, যদি কোনও ব্যক্তি ওই মাছের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে সেটিকে যেন তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলা হয়। আপাতত ওই পুকুরের প্রাণীজগতের উপর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আমেরিকার প্রায় ১৪টি স্টেটে স্নেকহেজ মাছ পাওয়া গেলেও টমাসের আশা জর্জিয়ায় এখনই হয়ত সেভাবে বংশবিস্তার করতে পারেনি।
ছবি:‌ এএনআই   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top