আজকাল ওয়েবডেস্ক: মা আর সন্তানের বন্ধন সব থেকে দৃঢ় বন্ধন। পৃথিবীর মধ্যে এটাই বোধহয় অন্যতম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সন্তানদের সুস্থভাবে লালনপালন করে বড় তোলা, তাদের যত্ন, সবেতেই নিজেকে উজার করে দিতে প্রস্তুত একজন মা। তা সে মানুষ হোক বা হিংস্র শ্বাপদ, পাখিই হোক বা বিষাক্ত কাঁকড়াবিছে। ঠিক ভেবেছেন, বিষাক্ত কালো কাঁকড়বিছের অপত্যস্নেহর গল্পই এখন বলব।
যার এক ছোবলেই মৃত্যু, ফেলুদাকে মারতে মন্দার বোস যে কাঁকড়াবিছে সোনার কেল্লা গল্পে ফেলুদার হোটেলরুমে ছেড়ে দিয়েছিল, তার মধ্যেও যে আছে এক স্নেহময়ী মা সেই ছবি ধরা পড়ল ওড়িশায়। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে কর্মসূত্রে গিয়েছিলেন পশুপ্রেমী মানস বেহরা। জঙ্গলে ক্যামেরা কাঁধে ঘোরার সময় এক অভাবনীয় দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা ক্লিক করতে ভোলেননি পশুপ্রেমী মানস। কালো কাঁকড়াবিছের পিঠের উপর একদল দল সাদা সদ্যজাত কাঁকড়াবিছে শাবক। প্রাণীটিকে পিছু নিয়ে মানস বুঝতে পারেন, জঙ্গলের বিপদ থেকে বাঁচাতে মা কাঁকড়াবিছে তার ছানাদের পিঠে নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। এভাবেই সে ঘুরবে ছানাদের পিঠে নিয়ে, যতদিন পর্যন্ত না তাদের নিজেদের খোলস এবং হুল তৈরি হবে, যাতে তারা নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কাঁকড়াবিছের পিঠের খোলস তৈরি হতে প্রায় ১০–২০ সময় লাগে। অন্যান্য কীটপতঙ্গদের মতো কাঁকড়াবিছে ডিম দেয় না। সন্তান প্রসব করে। সাধারণত, একবারে ১০০টি ছানা প্রসব করে কাঁকড়াবিছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top