আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ খাম্মামের রাস্তা। সেখানে ভ্যানে তৈরি করছেন ইডলি, ধোসা। তার পর ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন স্ত্রীর সঙ্গে। মাস তিনেক আগেও একটি বেসরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২২ হাজার টাকা বেতন পেতেন। লকডাউনে সব বন্ধ। অগত্যা বেছে নিয়েছেন এই পেশা। সেই ছবি এখন ভাইরাল। 
তবে খাম্মামের মারাগানি রামবাবু একা নন। রাঁচির একটি স্কুলে সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন লগনলাল মাহাতো। ৫০০০ টাকা বেতন পেতেন। এখন নিজের ধানক্ষেতে কাজ করছেন। আয় শূন্য। 
নালগোন্ডার ইংরেজির শিক্ষক বাদেতি রাভি। তিন মাস আগেও ১৬ হাজার টাকা বেতন ছিল। সব বন্ধ। এখন বিমা বিক্রির কাজ নিয়েছেন। অথচ তিন মাস আগেও এঁরা সকলেই স্কুলে পড়াতেন। মাস গেলে বেতন ঘরে আনতেন। কোভিড–১৯ এবং পরবর্তী লকডাউন ওঁদের জীবন বদলে দিয়েছে। 
লকডাউনের কারণে কয়েক লক্ষ ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। বা হতে চলেছে। সবথেকে বেশি মার খাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাক্ষেত্র। দেশের বিভিন্ন ছোট শহরে গজিয়ে উঠেছে কয়েক লক্ষ বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। সেগুলোই এখন বন্ধের মুখে। কারণ অভিভাবকদের নিজেদেরই রোজগার নেই। তাই স্কুলের ফি দিতে পারছেন না। ম্যানেজমেন্টের হাতেও টাকা নেই। ফলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ। 
অনেক শিক্ষকের ওপরেই গোটা সংসারের ভার রয়েছে। মাসের পর মাস বেতন নেই। খাওয়া জুটছে না। রাঁচি বা পাটনায় শিক্ষকতা করেন, এমন অনেকের বাস কোনও গ্রামে। এখন তাঁদের গ্রামে ফেরারও টাকা নেই। বিহারের শেখপুরার একটি স্কুলে বিজ্ঞান পড়ান ২৮ বছরের বিদ্যাসাগর। জানালেন, জুলাইয়ের মধ্যে স্কুলে ছাত্ররা না এলে না খেয়ে মরতে হবে। ক্রেডিট কার্ডে সংসার চলছে এখন। 
তেলঙ্গানার একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবির আলি জানালেন, ‘‌অভিভাবকরাই বেতন পাচ্ছেন না। অনেকের চাকরি গেছে।’‌ পাটনার কাছে দানাপুরে অঙ্কুর পাবলিক স্কুলের মালিক জানালেন, ‘‌অনলাইন ক্লাস চালু করেছি আমরা। কিন্তু ৭০ শতাংশ অভিভাবক বেতন দিতে পারছেন না। অনেকেরই আবার স্মার্টফোন নেই। তাই তাঁদের ছেলেমেয়েরা অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top