আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এই দুনিয়ায় কোনওকিছুই অসম্ভব নয়। যা ফের একবার প্রমাণ হলো। মালয়েশিয়ায় এক দম্পতির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। এই দম্পতি আবার যে সে দম্পতি নয়। এক বাঁদর দম্পতি। যারা আর পাঁচজন বিবাহিত পুরুষ ও নারীদের মতোই জীবনযাপন করে। 
পুরুষ বাঁদরটির নাম কান্দ। মহিলা বাঁদরের নাম সাকি। দু’‌জনে একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে যায়। বিছানায় শুয়ে পড়ে একসঙ্গে। কুয়ালালামপুরে মালিক জামিল ইসমাইলের কাছে থাকে এই বাঁদর দম্পতি। জামিল পেশায় একজন পশুপ্রেমী। 
জামিল জানিয়েছে, পুরুষ বাঁদরটিকে একটি নার্সারিতে বন্দি অবস্থায় দেখতে পেয়েছিল সে। কিন্তু পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় কান্দকে কিনে নিতে পারেনি। এরপর নার্সারিটি দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সমস্ত প্রাণীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তখনই কান্দকে বাড়ি নিয়ে আসে জামিল। তাঁর কথায়, ‘‌রাস্তার মাঝখানে বসেছিল কান্দ। তখন মাত্র একবছর বয়স। বাড়ি নিয়ে চলে আসি।’‌ এরপর কান্দের স্ত্রী খোঁজার কাজ শুরু করেন জামিল। এরপর তাঁর প্রাক্তন শিক্ষক পেরাকের মাধ্যমে সাকিকে কিনে বাড়ি আনেন জামিল। 
দু’‌জনের বয়স এক। দীর্ঘ ৯ বছর জামিলের বাড়িতে দম্পতির মতোই থাকে কান্দ–সাকি। বাঁদর দম্পতিকে সমাজের আদবকায়দা শিখিয়েছে জামিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। জামিলের কথায়, ‘‌প্রথম প্রথম দু’‌জনেই বাড়ি নোংরা করে রাখত। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়ে নিত। ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলত। একসময় আমার মাথাব্যথার কারণ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি অ্যাকোয়ারিয়াম পর্যন্ত ভেঙে ফেলত। দেখতাম মাছগুলি মেঝেতে পড়ে আছে।’‌ 
জামিলের প্রতিবেশীরা প্রচুর সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু কান দেননি জামিল। ধীরে ধীরে আদবকায়দা শিখতে শুরু করে বাঁদর দম্পতি। আর এখন?‌ ইন্টারনেটেও সিদ্ধহস্ত দু’‌জন। আগস্টে এই বাঁদর দম্পতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, দু’‌জনে কাপড় কাঁচতে ব্যস্ত। 

জনপ্রিয়

Back To Top