আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাড়তি আলুপেঁয়াজ রাখার জন্য স্বামীকে ভূগর্ভস্থ ভাঁড়ার তৈরি করতে বলেছিলেন। কিন্তু আরমেনিয়ার অ্যারিঞ্জ গ্রামের গৃহবধূ তোস্যা ঘারিব্যানের কোনও ধারণাই ছিল না, তাঁর স্বামী লেভন আরাকেল্যান শুধু ছেনি, হাতুড়ি দিয়ে আগ্নেয় শিলা কেটে এমন শিল্পকীর্তি বানাবেন, যা পরে দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘‌লেভনের ঐশ্বরিক গোলকধাঁধা’‌ নামে বিখ্যাত হয়ে যাবে।
মাত্র ৬০০০ বাসিন্দার গ্রাম অ্যারিঞ্জে ছোট একটি একতলা বাড়ি রয়েছে ঘারিব্যানদের। কিন্তু উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার তলায় আছে ৩০০০ বর্গফুট চওড়া, ২১ মিটার গভীর এক গোলকধাঁধা।

৭৩ বছরের তোস্যা জানালেন, ১৯৮৫ সালে প্রথম ভূগর্ভস্থ ভাঁড়ার তৈরির জন্য ছেনি, হাতুড়ি, বাটালি, কোদালের মতো সাধারণ গৃহস্থ বাড়িতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি কোপাতে শুরু করেছিলেন লেভন। তারপর গত ২৩ বছর ধরে দিনে ১৮ ঘণ্টা টানা কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু ঘুমনোর সময়টুকুই বিরতি পড়ত তাঁর কাজে। মাটির নিচে খোঁড়াখুঁড়ির সময় প্রথমে শক্ত কালো ব্যাসল্ট পাথর ভাঙতে হয়েছিল লেভনকে। কিন্তু কয়েক মিটার খোঁড়ার পরই তুলনামূলক নরম টুফা পাথর পেয়ে যান তিনি। তারপর আর থামানো যায়নি তাঁকে। ৬০০টি ট্রাক যতটা মাটিপাথর ফেলতে পারে, শুধু বালতি করে সেই আবর্জনা একা টেনে নিয়ে ফেলেছিলেন লেভন।


গর্বিত তোস্যার মন্তব্য, একসময় স্বামীর এই মাটি খোঁড়ার নেশা তাঁর পাগলামি মনে হয়েছিল। সেজন্য প্রচুর বকাবকিও করতেন লেভনকে। কিন্তু লেভন তাঁকে বলেছিলেন তিনি নাকি ঈশ্বরের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিলেন ওই সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য। কোনও নকশা, কোনও পরিকল্পনা করতেন না লেভন। স্ত্রীকে বলেছিলেন, পুরো নকশাটাই তাঁর মাথায় কেউ এঁকে দিয়ে গিয়েছে। লেভনের ৪৪ বছরের মেয়ে আরাক্স্যা বললেন, তাঁর ছোটবেলাটা পুরোটাই কেটেছে মাটির নিচে বাবার হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনে। ২০০৮ সালে দুটি সুড়ঙ্গ জুড়ে থাকা শেষ দেওয়া দেওয়াল ভাঙার পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান লেভন।

 
‘‌লেভনের ঐশ্বরিক গোলকধাঁধা’–য় রয়েছে দুটি সুড়ঙ্গ, সাতটি কক্ষ, রোমান ভাস্কর্যের গাঁথনির মতো পিলার এবং মধ্যযুগের আরমেনীয় চার্চের দেওয়ালে যে শিল্পকলা দেখা যায় সেধরনের ছবি। গোলকধাঁধার একটি কক্ষে লেভনের ছবি সাজিয়ে প্রার্থনার স্থান করেছেন তোস্যা। আজ পর্যটকরা ওই আসলে নিজে ঘুরিয়ে দেখান স্বামীর অনন্য কীর্তি। গোলকধাঁধা খুঁড়তে লেভনের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, তাঁর ছবি দিয়ে সাজিয়ে নিজের গ্রামেই একটি সংগ্রহশালাও খুলেছেন তোস্যা। যা আজ আরমেনিয়ার পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।      
 ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top