আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মা মারা যাওয়ার পর থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য একা একা তৈরি হওয়ার অভ্যাস করে নিয়েছিল ১১ বছরের ইসাবেলা পিয়ার। শুধু বাঁধতে পারত না নিজের চুল। সেই সমস্যাও মিটে গিয়েছে তার স্কুলের বাসচালিকার দৌলতে। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে এক মানবিক কাহিনী। দু’‌বছর আগে এক দুরারোগ্য রোগে মা–কে হারায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালপাইন এলাকার উটা শহরের ছোট্ট ইসাবেলা। এদিকে পেশাগত কারণে বাবাকেও কাজে বেরতে হয় খুব ভোরে। তাই স্নান খাওয়া, নিজের পোশাক গুছিয়ে নেওয়ার কাজ— সবই একা একা সারত সে। চুল বাঁধা নিয়ে যাতে সমস্যা না হয়, সেই কারণে ইসাবেলার চুল ছোট করে কাটিয়ে দিয়েছিলেন তার বাবা। তিনি বলছেন, ‘‌চুল বাঁধায় আমি পটু নই। তাই রোজই ওর চুল বাঁধতে দেরি হতো। তাই একবার ছোট করে চুল কাটিয়ে দিই।’‌ ফের চুল বড় হওয়ায় কোনওমতে চুল পিছনে টেনে ‘‌পনিটেল’‌ করে চুল বাঁধত সে। ইচ্ছা থাকলেও বিনুনি করতে পারত না।
এমন সময়, সে খেয়াল করে তার স্কুলবাসের চালিকা ট্রেসি ডিন–কে। যিনি আর একটি বাচ্চার চুল বেঁধে দিচ্ছিলেন। সাহস করে তাঁকেই চুলে বিনুনি করে দেওয়ার অনুরোধ করে ইসাবেলা। তার প্রস্তাবে সানন্দে সাড়া দেন ট্রেসি। এবং বলেন, এখন থেকে রোজ তিনিই ইসাবেলার চুল বেঁধে দেবেন। আসলে ট্রেসি একজন ক্যানসার বিজয়িনী। তিনি বলেছেন, ‘‌সাত বছর আগে আমার স্তন ক্যানসার হয়েছিল। মৃত্যুভয় আমাকে গ্রাস করেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যাই। ইসাবেলার কথা আমি যখন জানতে পারি, তখন মনে একটাই প্রশ্ন জেগেছিল। যদি আমি মরে যেতাম, তাহলে আমার সন্তানদের দেখাশোনা কে করতো? ইসাবেলা আমার সন্তানের মতো। আমি ওকে ভালবাসি।’‌ আর ইসাবেলা? সে বলছে, ‘‌ট্রেসি যখন আমার চুল বেঁধে দেয়, মনে হয় যেন আমার মা ফিরে এসেছে। ওঁর স্পর্শের মধ্যে আমি আমার মা–কে খুঁজে পাই।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top