আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সোমবারের আগে লাদাখের এই জায়গাটার নাম হয়তো অনেকেই শোনেনি। এখন নামটা আমআদমির মুখে মুখে ফিরছে। সোমবার সন্ধেবেলা এখানেই মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ভারত আর চীনা ফৌজের। শহিদ ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। যাঁর নামে এই উপত্যকার নামকরণ, সেই গুলাম রসুল গালওয়ানের নাতি জোর গলায় বলছেন, ভূখণ্ডটি বরাবরই ভারতের।  
সংঘর্ষে চীনের অন্তত ৪৫ জন জওয়ান হতাহত হয়েছেন বলে এখবর। যদিও চীন স্বীকার করেনি। দোষ চাপিয়েছে ভারতের ওপর। বলেছে, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনাই ঢুকেছিল তাদের ভূখণ্ডে। তাই হামলা চালিয়েছে তাদের সেনা। ভারত স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। এই বিরোধের নেপথ্যে রয়েছে একটি ঘাঁটি। গালওয়ান উপত্যকায় চীন ঘাঁটি করে বলেই প্রতিবাদ জানায় ভারতীয় সেনা। 
কয়েক পুরুষ ধরে লাদাখে রয়েছে গালওয়ান পরিবার। সেই পরিবারেরই মহম্মদ আমিন গালওয়ান জানালেন, ওই ভূখণ্ডে চীনের অধিকার নেই। ভূখণ্ড আর নদীটি আবিষ্কার করেন তাঁরই দাদু গুলাম রসুল গালওয়ান। 
১৮৭৮ সালে জন্ম। ১২ বছর বয়স থেকেই দুর্গম পার্বত্য এলাকায় গাইডের কাজ করতেন। বিশেষত কারাকোরাম, তিব্বত, মধ্য এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে ব্রিটিশদের পথ দেখাতেন। ব্রিটিশরা তখন বেশ ভয়ে ভয়েই রয়েছে, পাছে তিব্বতের পর্যন্ত এগিয়ে আসে রাশিয়া‌!‌ বিস্তার করে সাম্রাজ্য!‌ তাই খোঁজখবর, গুপ্ত খবর সংগ্রহ করতে লাদাখের পথ ধরে তিব্বতের দিকে এগোচ্ছিলেন কয়েক জন ব্রিটিশ। নেতৃত্বে ছিলেন লর্ড ডানমোর। 
তুষারঝড়ে পথ হারান ব্রিটিশ দলটি। ত্রাতা হয়ে আসেন গালওয়ান। পথ খুঁজতে গিয়ে এই উপত্যকার সন্ধান পান। দেখতে পান নদীটি। তাই সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে ফেরেন ডানমোররা। গালওয়ানকে সম্মান জানাতে তাঁর নামেই রাখেন উপত্যকার নাম। নাতি মহম্মদ আমিন জানালেন, ১৯৬২ সালেও এই এলাকা নিজেদের বলে চালাতে চেয়েছিল চীন। পারেনি। ‘‌এটি ভারতের অংশ ছিল, রয়েছে, থাকবে । আমাদের সেনা যুদ্ধ করে ওদের হঠিয়েছে। তাঁদের কুর্নিশ।’‌   

জনপ্রিয়

Back To Top