আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আবার দেশের বিচিত্র অরণ্যজীবনের অজানা কথা নিজের ছবির মাধ্যমে তুলে ধরলেন বনকর্মী প্রবীণ কাসোয়ান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটা ভিডিও দেখে প্রথমে অনেকেরি গা শিরশির করে উঠেছিল। কারণ ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে একটা ফ্লেমিঙ্গোর মাথা দিয়ে রক্তের ধারা গড়িয়ে পড়ছে আর তার মাথা ঠোকরাচ্ছে আরেকটা ফ্লেমিঙ্গো। কিন্তু প্রবীণ টুইট পোস্টে সবাইকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন যে, ওই ফ্লেমিঙ্গো দম্পতি মারপিট করছে না মোটেই নিজেদের মধ্যে। তারা তাদের শাবককে ক্রপ মিল্ক পান করাচ্ছে। পক্ষীশাবকেরও ছবি ওই ফুটেজে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষকে এই পদ্ধতি এবং ক্রপ মিল্ক সম্পর্কে বিশদে বোঝাতে কাসোয়ান লিখেছেন, খাবার পরিপাকের আগে ফ্লেমিঙ্গোদের খাদ্যনালীতে যে খাবার জমা হয় তারই একাংশ হল ক্রপ। সেই ক্রপের প্রোটিন এবং চর্বিযুক্ত অণু দিয়েই তৈরি হয় ক্রপ মিল্ক। আর এই দুধের রং গাঢ় গোলাপি হয়, যা ভিডিওয় রক্ত মনে হচ্ছে। প্রবীণের ওই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। জীবজগতের বৈচিত্র দেখে স্বভাবতই আপ্লুত সোশ্যাল মিডিয়া।
প্রাণীবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, নিজেদের খাবারে প্রচুর পরিমানে অ্যালগি এবং ক্রাস্টেসিয়ান খায় ফ্লেমিঙ্গোরা। তা থেকে তৈরি হওয়া ক্যারোটেনয়েডের কারণেই ফ্লেমিঙ্গোদের শরীরে গোলাপি আভা দেখা যায়। কিন্তু শাবককে ক্রপ মিল্ক পান করাতে গিয়ে তাদের প্রচুর ক্যারোটেনয়েড নষ্ট হওয়ায় সেসময় তারা সাদাটে হয়ে যায়। শাবকরা নিজেরা খাবার খোঁজার মতো বড় হয়ে গেলে ফের শরীরের গোলাপি আভা ফিরে আসে অভিভাবক ফ্লেমিঙ্গোদের। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, গলার কাছে সম্প্রসারিত অংশে তৈরি হওয়া ওই ক্রপ নিষ্কাষিত দুধ সরাসরি শাবকদের পান করাতে পারে যেসব পাখি, তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্লেমিঙ্গোই।
ছবি:‌ প্রবীণ কাসোয়ান, বনকর্মী         

জনপ্রিয়

Back To Top