আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সময়ে সময়ে তাঁরাই আসল হিরো। পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করেন বললে ভুল হবে না। তাঁরা চিকিৎসক। করোনার সঙ্গে আসল লড়াইটা কিন্তু করছেন এই চিকিৎসকরাই। 
গুজরাটের এক চিকিৎসক নিজের জীবন বিপন্ন করে প্রাণ বাঁচালেন এক কোভিড আক্রান্ত বৃদ্ধের। চিকিৎসক নিজেও কিন্তু কোভিড আক্রান্তই। ডা.‌ সঙ্কেত মেহতা এগিয়ে না এলে ৭১ বছরের বৃদ্ধ আজ হয়তো পৃথিবীতেই থাকতেন না। 
কোভিড আক্রান্ত হয়ে বিএপিএস হাসপাতালে ভর্তি হন ৩৭ বছরের মেহতা। আইসিইউ–তে রাখা হয় এই অ্যানাস্থেটিস্টকে। অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন বৃদ্ধ দীনেশ পুরানি। চরম শ্বাসকষ্ট। সেই মুহূর্তে ভেন্টিলেশনে রাখা দরকার। চিকিৎসকরা জানালেন, তিন মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারত। 
দেখে এক মুহূর্তও আর শুয়ে থাকেননি মেহতা। নিজের নাক থেকে অক্সিজেনের নল খুলে এগিয়ে আসেন। নিমেষে রোগীর মুখে ভেন্টিলেশনের প্লাস্টিকের নল ঢুকিয়ে দেন। হাসপাতালের সিইও ডা.‌ পুরুষোত্তম কোরাডিয়া জানালেন, ভেন্টিলেশনের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের নল রোগীর মুখে ঢোকানোর কাজটা অ্যানাস্থেটিস্টরাই করেন। সেই মুহূর্তে হাসপাতালের অ্যানাস্থেটিস্টের পিপিই কিট পরে আসতে ১৫–২০ মিনিট সময় লেগে যেত। সেসব বুঝেই এগিয়ে আসেন মেহতা। 
কোরাডিয়ার কথায়, ডা.‌ মেহতার নিজের শরীরও কিন্তু ভাল নয়। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। মিনিটে ৬ লিটার অক্সিজেন লাগছে। এই পরিস্থিতিতে নল খুলে অন্য রোগীকে সাহায্য করা মুখের কথা নয়। তাছাড়া ওই বৃদ্ধে দু’‌টি শয্যা পরে চিকিৎসকের শয্যা। এই শরীরে এতটা হেঁটে আসাও সহজ নয়। কিন্তু রোগীর বিপদে এসব কিছুই ভাবেননি তিনি। ডা.‌ মেহতা এখনও হাসপাতালে রয়েছেন। তবে স্থিতিশীল। অতীতে ওই হাসপাতালের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন তিনি। ৭১ বছরের বৃদ্ধ আইসিইউ–তেই রয়েছেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top