আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘‌ডিজিটাল ইন্ডিয়া’‌র স্বপ্ন নাকি ডিজিটাল চিনা দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই ধরনের কটাক্ষের উক্তি শোনা গিয়েছিলে দেশের অনেক বিরোধী নেতার মুখে। মোদি সরকার দেশকে ডিজিটাল কতটা করতে পেরেছেন তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও চিন কিন্তু নিজেদের ডিজিটাল করতে সফল হয়েছে। চিনের ডিজিটাল অর্থনীতি ভারতের থেকে কয়েকধাপ এগিয়ে। ডিজিটাল জীবন শুধু বেজিং নয়, গোটা চিনের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তারই ছবি ধরা পড়ল চীনের জিনান প্রদেশের ওয়াংফু পুল পর্যটন এলাকায়। এই এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষরা নিজেদের ভিক্ষা পাত্রে কিউআর কোড যুক্ত একটি কার্ড রাখা থাকে। যারা ভিক্ষা দিচ্ছেন, তারা মোবাইলের ‘‌আলিপে’‌ বা ‘‌উইচ্যাট’‌র মতো ডিজিটাল ওয়ালেট খুলে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে নিচ্ছেন। ওই কার্ডে মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিক্ষার অঙ্ক গ্রহণ করছেন। এই পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে জিনান প্রদেশে। জানেন কি রোজগারের পরিমান বেশি হাওয়ায় জিনান প্রদেশের এক জন ভিক্ষুক এখন প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৬ ঘণ্টা ভিক্ষা করেন।
চিনের জিনান প্রদেশে প্রতিবছর প্রচুর বিদেশি পর্যটক বেড়াতে আসে। এই বিদেশি পর্যটকরা এলাকার ভিক্ষুকদের অনেক দানধ্যান করেন। চিনে খুচরোর সমস্যা। ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশনের পদ্ধতি চালু থাকায় ভিক্ষুকদের দান করার   সময় অনেক সুবিধা হয়। অবশ্য চিনে একটি সংস্থার দাবি, চিনের বিভিন্ন শহরে থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমদামি স্মার্টফোনে উইচ্যাট এবং আলিপে অ্যাপসের ব্যবহার ব্যাপক ভাবে চালু আছে। তাদের আরও দাবি, অসাধু কিছু সংস্থা গরিব মানুষদের অর্থের লোভ দেখিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিক্ষা করার ব্যবসা করছে। কারণ এখানে পেমেন্টেগুলো ডিজিটালি পদ্ধতি হয়। এই কারণে ওই সব অসাধু সংস্থাগুলি প্রতিটি ট্রানজাকশন থেকে তারা কমিশন পায়। ডিজিটাল পদ্ধতির এই অসাধু প্রক্রিয়া চিন প্রশাসনের নাকের ডগায় হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে এক আন্তর্জাতিক সাংবাদমাধ্যমের দাবি। যদি এই ছবি ভারতের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে দেখা যেত তাহলে আমরা এই ডিজিটাল পদ্ধতি নিয়ে কি বলতাম?‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top