আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। এর্নাকুলামের এক হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করেন। কোনওমতে চলে সংসার। সেই শ্রমিকের মেয়েই কেরলের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম। পায়েল কুমারীর এই কৃতিত্বে আপ্লুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবারের সকলেই।
বিহারের শেখপুরা জেলার গোসাইমাধি গ্রামে থাকতেন প্রমোদ কুমার সিং। রুজি খোঁজে কেরলে পাড়ি দেন। পায়েলের তখন মাত্র চার বছর বয়স। ওই বয়সেই বাবা–মায়ের সঙ্গে চলে আসেন কেরলে। তার পর সংসার চালাতে একের পর এক কাজ ধরতে আর ছাড়তে থাকেন প্রমোদ। বদলাতে থাকে জায়গাও। এখন এই পরিযায়ী পরিবার থাকেন কঙ্গরাপাড্ডিতে।
তবে কোনও কিছুই দমাতে পারেনি পায়েলকে। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তুখড়। দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ৮৩ শতাংশ। দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ পেয়েছিলেন কলাবিভাগের এই ছাত্রী। ২০১৭ সালে পেরিমবাভুরের মার থোমা মহিলা কলেজে ভর্তি হন পায়েল। সেখানেও পড়াশোনা বন্ধ হতে চলেছিল। অর্থাভাবে। পাশে দাঁড়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সাহায্য দেয়। সে কারণেই ফের পড়াশোনা চালু হয় পায়েলের। 
পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজসেবার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন পায়েল। ২০১৮ সালে নিজের কলেজের বন্যা ত্রাণ দলেও যোগ দেন। ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের স্বেচ্ছাসেবী তিনি। এবার কী করবেন?‌ সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘‌স্নাতকোত্তর পড়ব। সিভিল সার্ভিস দেওয়ারও ইচ্ছে রয়েছে।’‌   

জনপ্রিয়

Back To Top