ফাইজারের করোনা টিকার নেপথ্যে এই দুই অভিবাসীর সন্তান

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রোজ লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ।

মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের কাবু ইউরোপ। এর মধ্যেই দুনিয়াবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে আমেরিকার ফাইজার সংস্থা। জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকা কোভিড রোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর।
ফাইজার সংস্থার সঙ্গে এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক। গোটা গবেষণার পিছনে যাঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তাঁরা হলেন বায়োএনটেক–এর সিইও উগুর সাহিন (‌৫৫)‌ এবং তাঁর স্ত্রী, তথা সংস্থার বোর্ড সদস্য ওয়েজলেম তুয়েরেসি (‌৫৩)‌। 
সাহিনের বাবা তুরস্ক থেকে জার্মানিতে এসেছিলেন। কাজ করতেন ফোর্ডের কারখানায়। ছোট থেকে অভিবাসী পরিবারের এই ছেলেটির স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবেন। চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করবেন। সেই মতো মেডিক্যাল পড়ার পর কোলোনের এক হাসপাতালে যোগ দেন। সেখানেই আলাপ হয় আর এক অভিবাসী পরিবারের মেয়ে তুয়েরেসির সঙ্গে। তুয়েরেসির বাবা ডাক্তার। তুরস্ক থেকে জার্মানি এসেছিলেন। 
দু’‌জনের ভালো লাগা একই। চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা আর অঙ্কোলজি। সেই থেকে দুই কাজ পাগল মানুষের সম্পর্ক শুরু। দু’‌জনে নাকি বিয়ের দিনও এক ফাঁকে ঘুরে এসেছিলেন গবেষণাগারে। ক্যানসার নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন এই দম্পতি। এখনও করছেন। ২০০১ সালে ক্যানসার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁরা খুলে ফেলেন গ্যানিমেড ফার্মাসিউটিকালস। ২০০৮ সালে বায়োএনটেক–এর পথ চলা শুরু।
ক্যানসার নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর এবার কোভিড–রোধী যুদ্ধেও সামিল হলেন তাঁরা। ফাইজারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সফল গবেষণা। গত বছর বায়োএনটেক–এর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪৬০ কোটি ডলার। গত শুক্রবার তা দাঁড়িয়েছে ২১০০ কোটি ডলারে। তার পরেও সাহিন দম্পতির পা মাটিতে। নিজেদের অভিবাসীর পরিচয় আজও ভোলেননি সাহিন। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আসেন সাইকেলে চেপে। হাতে হেলমেট। আর পরনে থাকে জিনস।   

আকর্ষণীয় খবর