আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাভাষার প্রতি নিজের ভালবাসার কথা অকপটে স্বীকার করছেন অনেকেই। ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলছেন ঝড়। মূলত অভ্র কি–বোর্ড সফটওয়্যারের মাধ্যমেই ফেসবুকে লেখা হয় বাংলা। যে সফটওয়্যারের জনক মেহদি হাসান খান। জেনে নেওয়া যাক মেহেদি ও 
❏ ‌অভ্রের প্রথম ভার্সনে এর কি–বোর্ড লে আউটের নাম ছিলো ’ইউনিবিজয়’। 
❏‌ ২০০৩ সাল থেকে অভ্র বানানোর কাজ শুরু হয়। মেহেদি একটি নতুন বাংলা ফন্ট বানিয়েছিলেন। যার নাম ছিল ইউনিবাংলা। সেই ইউনিবাংলা ফন্টটি ইন্সটল করার পর মেহেদি লক্ষ্য করেন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড–এ ইনসার্ট কি ব্যবহার করে খুব সহজেই যুক্তাক্ষর বানানো যাচ্ছে। সেই সময় বাংলা যুক্তাক্ষর বানানোর জন্য বিশেষ সফটওয়্যার এবং ফন্ট দুই–ই লাগতো। মেহেদি দেখেন তেমনটা আর লাগছে না, পরিবর্তে শুধুমাত্র ফন্ট দিয়েই যুক্তাক্ষর বানানো যাচ্ছে।
❏‌ কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ফন্টের খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। সেই সময়েই মেহেদি ঠিক করেন, এই সফটওয়্যার বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন যে কেউ।
❏‌ পেশাদার সফটওয়্যার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য মেহেদি তিনি নিয়মিত রিলিজ লগ লিখতেন, ভার্সন নাম্বার বাড়াতেন, বিশাল বিশাল সমস্ত ইউজার ম্যানুয়াল লিখতেন, যাতে পেশাদারিত্বের ছোঁয়া থাকে তাঁর সফটওয়্যারে
❏‌ অভ্র নিয়ে রাতদিন পড়ে থাকার কারণে পড়াশুনো শিকেয় উঠেছিল ডাক্তারির ছাত্র মেহেদির। সকলেই ভেবেছিল তিনি বোধহয় পাশই করতে পারবেন না। কিন্তু সকলকে অবাক করে তিনি সাফল্যের সঙ্গেই পাশ করেন।
❏‌ ইতিমধ্যে সেই সময়ের জনপ্রিয় প্রযুক্তি পত্রিকা ‘‌কম্পিউটার টুমরো’ অভ্রের কথা লেখা। সঙ্গে ফ্রি দিতে শুরু করে অভ্রের একটি করে সিডি। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মেহেদিকে।
❏‌ ২০০৭ সালে 'অভ্র কি–বোর্ড পোর্টেবল এডিশন' বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়। অভ্রের সোর্স কোড উন্মুক্ত। অর্থাৎ যে কেউ চাইলেই গিটহাব রিপোজেটরি থেকে এর উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 
❏ মাইক্রসফটের অনলাইন অভিধানে ইন্ডিক ভাষাসমূহের সমাধানের তালিকায় অভ্র কি-বোর্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা ‌হয়েছে।
❏ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অভ্র ব্যবহার করে।
❏ অভ্রকে বাংলা কি-‌বোর্ড রিসোর্স হিসেবে ইউনিকোড সংস্থার ওয়েবসাইটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
❏ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিস বাংলা তথ্য প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য অভ্র-কে ২০১১ ‘‌বিশেষ অবদান পুরষ্কার’‌ দেওয়া হয়।
❏‌  শিক্ষাগত যোগ্যতায় চিকিৎসক হলেও নামের আগে ডক্টর লেখেন না মেহেদি।  

জনপ্রিয়

Back To Top