আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়। মহানদী গতি পরিবর্তন করে। তখনই সলিল সমাধি হয় গোপীনাথের মন্দিরটির। কয়েক দশক আগে পর্যন্ত গ্রীষ্মে নদী শুকিয়ে গেলে মাঝেমধ্যে দেখা যেত। গত ১১ বছর ধরে তার আর কোনও চিহ্নই মেলেনি। অবশেষে মহানদীর বুকে ফের ভেসে উঠল সে। কটকের কাছে মন্দিরটি আবিষ্কার করল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ (‌ইনটাক)‌–এর একটি দল। 
কটকের কাছে পদ্মবতী এলাকা। সেখানকারই বৈদেশ্বরে মহানদীর মাঝখানে ভেসে উঠেছে প্রাচীন এই মন্দির। বহু চেষ্টার পর মন্দিরটি সনাক্ত করেছেন ইনটাক–এর প্রোজেক্ট অ্যাসিসট্যান্ট দীপক কুমার নায়াক। মন্দিরটির উচ্চতা ৬০ ফিট। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মন্দিরটি পঞ্চদশ বা ষোড়শ শতকে তৈরি। মন্দিরের শীর্ষভাগ, যাকে মস্তক বলে, তার নকশা এবং নির্মাণের উপকরণ এমনটাই বলছে। মন্দিরটি যে এককালে ওই এলাকায় ছিল, তা জানতেন স্থানীয়রা। কয়েক দশক আগে জলেন নীচে মাঝেমধ্যে উঁকি দিতেও দেখা গেছে।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট অফ আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ (‌ইনটাক)‌–এর এই শাখা মহানদী অববাহিকায় অবস্থিত হেরিটেজ নিয়ে কাজ করছে। গত বছর থেকে এই হেরিটেজগুলো খুঁজে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত ১৭০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে নদীটি। প্রায় আটটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। গোটা অববাহিকায় ৮০০টি প্রাচীন স্থাপত্য ও হেরিটেজ নথিভুক্ত করেছে। কাজটা মোটেও সহজ নয়। এবার তা করতে গিয়ে নতুন এক স্থাপত্য আবিষ্কারও করল। সামনের বছর এই নথি প্রকাশিত হবে। 
নতুন আবিষ্কৃত মন্দিরটি গোপীনাথের। এই এলাকাটি অতীতে ‘‌সতপতন’‌ নামে পরিচিত ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভয়ঙ্কর বন্যা হয়। তখনই গতিপথ পরিবর্তন করে মহানদী। তার জেরে ডুবে যায় এই মন্দির এবং সংলগ্ন গ্রাম। গোপীনাথের মূর্তি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পদ্মাবতী গ্রামের এক উঁচু জায়গায়। সেখানেই আজও পুজো চলছে বিগ্রহের। এবার আবিষ্কৃত হল মন্দিরটিও। 

জনপ্রিয়

Back To Top