আজকাল ওয়েবডেস্ক: সালটা ১৯১৮। স্পেন সহ সারা বিশ্বে মারণ থাবা বসিয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮–র জানুয়ারি থেকে ১৯২০–র ডিসেম্বর, টানা ৩৬ মাস ধরে চলা এই মারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় ইওরোপ সহ তৎকালীন বিশ্ব জনসংখ্যার এক–তৃতীয়াংশ বা কমপক্ষে ৫০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এইচ১এন১ ভাইরাসজনিত এই মহামারী কেড়ে নিয়েছিল কমপক্ষে ১০ কোটি মানুষের প্রাণ। সেই সময়, ১৯১৮ সালে, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এই ফ্লু–তে আক্রান্ত হয়েছিল স্পেনের রোন্ডার বাসিন্দা অ্যানা ডেল ভালে। পরে সুস্থও হয়ে ওঠে সে। 
১০২ বছর বাদে, ২০২০ সালে আবার একটা মহামারীর সঙ্গে লড়ছে পৃথিবী। আর এবারও কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত হন অ্যানা। আর ছয় মাস বাদেই তিনি ১০৭ বছরে পড়বেন। কিন্তু ১০০ বছর আগেও যেমন মহামারী হারাতে পারেনি ছোট্ট অ্যানাকে, ১০০ বছর পরও বৃদ্ধা অ্যানার কাছে পরাজিত হল আরেকটা মহামারী। অ্যানার পুত্রবধূ পাকুই স্যাঞ্চেজ জানালেন, অ্যালকালা ডেল ভালের একটা নার্সিং হোমে ছিলেন অ্যানা। সেখানেই ৬০জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হন অ্যানাও। তারপরই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর পরিবার তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেয় লা লিনিয়ার একটা হাসপাতালে। কিছুদিন আগেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে রোন্ডায় নিজের বাড়ি ফিরেছেন বৃদ্ধা। আর পরিবারের সবচেয়ে প্রাচীন সদস্যকে সুস্থ ফিরিয়ে আনতে পেরে ডেল ভালে পরিবারেও খুশির হাওয়া।
পাকুই হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, বেশি বয়সের কারণে তাঁরা তাঁর শাশুড়ির অতিরিক্ত যত্ন নিয়েছিলেন। পাকুই আরও বলেছেন, এখনও নিজে হাতেই খান অ্যানা। কখনও বেশি খেয়ে ফেলেন। তো কখনও একদমই হাল্কা খাবার খান। তবে সুস্থ হয়ে উঠলেও অ্যানার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অতি সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
১০৬ বছরে করোনাভাইরাসকে হারিয়ে আপাতত অ্যানাই স্পেনের সবচেয়ে বয়স্ক রোগী। এছাড়া এপর্যন্ত ১০৭ বছরের ডাচ বৃদ্ধা কর্নেলিয়া র‌্যাসই এপর্যন্ত সবচেয়ে প্রবীণ যিনি কোভিড–১৯–কে হারিয়েছেন।   ‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top