আজকালের প্রতিবেদন, ‌শিলিগুড়ি: সকাল থেকেই চাঁদিফাটা রোদ আর সারাদিন তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল উত্তরবঙ্গবাসী। দু’‌দিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। ফলে আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, শসা, তরমুজ এবং ফলের রসের বিক্রি বেড়ে গেছে। চিকিৎসক এবং কৃষিবিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আবহাওয়া আর সপ্তাহখানেক থাকলে খেতের ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। রোগভোগের আশঙ্কাও বাড়ছে। দার্জিলিঙে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.‌০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি। গরম সামাল দিতে ফ্যান চালাতে হয়। জলপাইগুড়িতে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.‌৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শিলিগুড়িতে ৩৬.‌৪, কোচবিহারে ৩৬.‌১।
বাড়তি তাপমাত্রায় শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে সর্বত্রই জ্বালাধরা গরমে মানুষ নাজেহাল। সকাল থেকেই চড়া রোদ গায়ে–মুখে–চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। বেলা গড়ার সঙ্গে তাপমাত্রা আরও বাড়ছে। ফ্যানের তলায় বসেও স্বস্তি মিলছে না। গত কয়েক বছরে এতটা গরম হয়তো পড়েনি উত্তরবঙ্গে!‌ এর মধ্যে শহরের অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবাও বন্ধ থাকছে। ফলে জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। রাতের দিকে শিলিগুড়িতে হালকা বৃষ্টি হয়। তাতে কিছুটা স্বস্তি মেলে।
শ্রাবণ মাস চলছে। শুরুতে টানা বেশ কয়েক দিন বৃষ্টিপাতও হয়েছে। তবে দু’‌দিন হল বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশে মেঘও নেই। স্বচ্ছ নীল আকাশে সূর্যের প্রখর তাপ মানুষকে অসুস্থ করে দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ বাড়ি, পাড়ার মোড়ের দোকান ছেড়ে বড় বট, পাকুড় গাছের তলায় গল্পগুজব করছেন। চায়ের দোকানে বসে সতু সূত্রধর বলছিলেন, গরমে আর ভাল লাগছে না। তার ওপর কাজ করতে হচ্ছে। খুব কষ্ট।’‌ এক আইসক্রিম বিক্রেতা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় বলেন, ‘‌গ্রামে গেলে সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই রোদে খুব কষ্ট হচ্ছে।’‌
এরই মধ্যে গরমে রাস্তায় বেরিয়ে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার ওই ব্যক্তিকে ফুলবাড়ি হয়ে জোটিয়াখালির দিকে যেতে দেখেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এর কিছুক্ষণ পরই ব্যক্তির মৃতদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশের অনুমান গরমেই মৃত্যু হয়েছে।  
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এইরকম অস্বস্তিকর আবহাওয়া আরও কয়েক দিন চলবে। এখনই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই উত্তরবঙ্গে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরেই উত্তরবঙ্গে গরম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা। অসহ্য গরমে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। 
জলপাইগুড়ি জেলায় রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাঁকা। গরমের জেরে জেলার হাসপাতাল, নার্সিংহোমে জ্বর নিয়ে অনেকে ভর্তি। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার এই সময় বেশি করে জল খেতে বলছেন। দার্জিলিং পাহাড়ে দুপুর নাগাদ গরম বাড়ছে। পাখা চালছে।

জনপ্রিয়

Back To Top