অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ১০ ফেব্রুয়ারি- রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধ পালন করলেন রায় ২ হাজার ব্যবসায়ী। গত ১ বছর ধরেই রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। এদিন আলিপুরদুয়ার ভোলারডাবরি থেকে দমনপুরের মাঝে জংশন রেল বাজার–‌সহ প্রায় ৪ কিমি এলাকা জুড়ে বন্‌ধ পালিত হয়। আলিপুরদুয়ার জংশনে ডিআরএম অফিসের ঠিক সামনে মঞ্চ বেঁধে কয়েকশো ব্যবসায়ী সকাল থেকে দুপুর, টানা ৩ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। জংশন এলাকার ব্যবসায়ীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বিক্ষোভ মঞ্চে বক্তব্য পেশ করেন। জেলার অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও হাজির হন সেখানে। মোট ৭ দফা দাবি নিয়ে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিআরএমের কাছে যায়। দাবিগুলির মধ্যে ছিল আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের গুরুত্ব, মর্যাদা, ক্ষমতা সঙ্কোচন করা চলবে না। যে ৫টি ট্রেনকে আলিপুরদুয়ার জংশন রুট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে ইলেকট্রিক লোকোশেড করতে হবে। লিঙ্কিং রেল চালু করতে হবে আলিপুরদুয়ার জংশন ও নিউ আলিপুরদুয়ারের মধ্যে। 
মূল দাবিগুলোর পাশাপাশি রেলের উচ্ছেদ নিয়ে যে আতঙ্ক রয়েছে গত ১৫ বছর ধরে, তাও ফুটে ওঠে এদিনের বন্‌ধ–বিক্ষোভে। ব্যবসায়ী সমন্বয় সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুষাররঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‌ডিআরএম আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অরুণাচল এক্সপ্রেস, সিকিম মহানন্দা এক্সপ্রেসকে ফিরিয়ে আনা হবে। দ্রুত রেল আমাদের দাবিগুলির পরিপ্রেক্ষিতে সমীক্ষা করবে। রেল কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’‌ এদিকে, উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তুষাররঞ্জন বলেন, ‘‌এর আগে রেল এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীরা ৪ কোটি টাকা খাজনা দিয়েছিলেন। বর্তমানে অনেক ছোট ছোট ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা ধীরে ধীরে বকেয়া শোধ করছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দিক থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী এদিনও রেলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‌এবারের রেল বাজেটে উত্তরবঙ্গকে ন্যূনতম কোনও সাহায্য করেনি কেন্দ্র সরকার। রেলে প্রাপ্তি শূন্য। উচ্ছেদ নিয়ে গত সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেস জংশনে আন্দোলনে নেমেছে। আমরা ব্যবসায়ীদের পাশেই আছি।’‌ 
অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়ি জংশনের মাঝে রেল ট্র‌্যাকে বন্যপ্রাণের মৃত্যু রুখতে বড় কোনও পরিকল্পনা নিতে পারেনি রেল। অরুণাচল এক্সপ্রেসের মতো লাভজনক ট্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। লাভজনক আলিপুরদুয়ার ডিভিশনকে ধীরে ধীরে অলাভজনক করে ফেলা হচ্ছে। বর্তমান বাজেটে উত্তর–পূর্ব সীমান্তে রেলের জন্য ৬৫৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যার সিংহভাগ অর্থ অসমে সীমান্ত রেলের ৪টি ডিভিশনে খরচ হবে। স্বাভাবিকভাবেই বঞ্চনার অভিযোগও দানা বঁাধছে রেলের বিরুদ্ধ।

দোকান বন্ধ। শুনশান আলিপুরদুয়ার স্টেশন সংলগ্ন এলাকা। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top