অলক সরকার, সুকনা: গুরুংদের আন্দোলনের জেরে স্তব্ধ হয়ে ছিল পাহাড়। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঐতিহ্যের টয় ট্রেন। ১২৪ দিন বন্ধ থাকার পর সাময়িকভাবে বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় চালানোর চেষ্টা হয় ১৫ অক্টোবর থেকে। এতদিন পার হলেও সমতল থেকে পাহাড়ে ছোটানো যায়নি পর্যটকদের প্রিয় ‘খেলনা ট্রেন’। অবশেষে ১৫ ডিসেম্বর থেকে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। ফের স্থায়ীভাবে সমতল থেকে পাহাড়ে ছুটবে টয় ট্রেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসন এবং জিটিএ–র তরফে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত পাকা হয়েছে। জিটিএ–র প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাং নিজেই এদিন জানিয়েছেন এই সুখবর। ২৭ ডিসেম্বর থেকে পাহাড়ে শুরু হচ্ছে তিস্তা–রঙ্গিত পর্যটন উৎসব। এই উৎসবের আগে টয় ট্রেন চালু হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। পিনটেল ভিলেজে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড় নিয়ে বৈঠক করার সময় বিনয়–অনীতরা পর্যটন উৎসবের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সেই উৎসবে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তখনই টয় ট্রেনের বিষয় নিয়ে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, এই হেরিটেজের সঙ্গে পর্যটকদের সম্পর্ক নিবিড়। ফি–বছর একটা বড় অংশের পর্যটক আসেন শুধুমাত্র টয় ট্রেনের টানে। অন্যদিকে, টয় ট্রেনের হেরিটেজ তকমা বাঁচানোর জন্য ট্রেন চলাচল খুব জরুরি। অনেক লড়াই–চেষ্টার পর পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে। উন্নয়ন নিয়ে জিটিএ–র পাশাপাশি রাজ্য সরকার ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। এই অবস্থায় টয় ট্রেন বন্ধ থাকা মানে বাইরে সঠিক বার্তা যাচ্ছে না। অনেকের ধারণা, টয় ট্রেন বন্ধ মানে পাহাড় এখনও স্বাভাবিক নয়। মূলত, সব ভুল ধারণা ভেঙে পাহাড়কে ছন্দে ফেরাতেই দ্রুততার সঙ্গে এই উদ্যোগ। এখন পর্যটনের মরশুম নয়। এই সময় পাহাড়ে মানুষের আনাগোনা কম থাকে। ২৫ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়। কিন্তু পর্যটন উৎসব শুরু হচ্ছে জেনেই অনেক মানুষ হোটেল বুকিং শুরু করেছেন। অনেক বিদেশি পর্যটক ইতিমধ্যে দার্জিলিঙে পৌঁছেও গেছেন। এরকম সময়ে অনেকটা গমগমে পরিবেশ পেয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনেও আশার সঞ্চার হয়েছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top