শুভঙ্কর পাল, শিলিগুড়ি:‌ কোথাও ভায়োলিন বাজিয়ে স্বাগত জানানো হল। কোথাও আবার টয় ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভিড় জমালেন মানুষ। দীর্ঘ সময় পর টয় ট্রেন চালু হওয়ায় অন্য আবেগ দেখা গেল শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে। পাহাড়ে আন্দোলনের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল টয় ট্রেন। পরে ১৫ অক্টোবর থেকে শিলিগুড়ি–সুকনা স্টেশন পর্যন্ত সাময়িকভাবে কম ভাড়ায় টয় ট্রেনের সফর চালু হয়েছিল। তবে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শুক্রবার থেকে শিলিগুড়ির এনজেপি স্টেশন থেকে দার্জিলিং স্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত টয়ট্রেন পরিষেবা চালু হল। সকালে এনজেপি থেকে টয় ট্রেন ছাড়ার আগে অনেকেই ভিড় জমান সেখানে। রেল আধিকারিক থেকে স্টেশনে আসা যাত্রীরা অনেকেই সেলফি তোলেন। স্টেশন ম্যানেজার তপন সাহা সহ অন্যান্য রেল আধিকারিকেরা সবুজ পতাকা নাড়িয়ে টয় ট্রেন রওনা করেন। ৯ টা নাগাদ শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে পৌঁছায় টয় ট্রেন। হাজির হয়েছিলেন ভায়োলিন বাদক ভগবান দাস। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তাঁর ভায়োলিনের সুরে বেজে উঠে ‘মেরে সাপনো কি রাণি কব আয়েগি তু’। এদিন টয় ট্রেনের যাত্রী ছিলেন দুই জোড়া নব দম্পতি। দিল্লির বাসিন্দা রঞ্জিত সিন্ধে ও স্বাতী গুপ্তা। কিছুদিন আগেই বিয়ে সেরেছেন। অন্যদিকে আমদেবাদের বাসিন্দা নিমেষ সাকসেনা ও আন্সিকা সাকসেনা। তাঁদের বিয়ের এখনও একমাস হয়নি। দুই দম্পতি দার্জিলিঙে মধুচন্দ্রিমা করবেন বলে প্ল্যান সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু বাড়তি পাওনা যে টয় ট্রেনের সফর হবে তা ভাবতে পারেননি। বৃহস্পতিবার তাঁরা জানতে পারেন যে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং টয় ট্রেন চলবে। সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে টিকিট কেটে ফেলেন। শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনের সামনেই হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন সাকসেনা দম্পতি। শুক্রবার সাত সকালেই ব্যাগপত্র নিয়ে হাজির হয়ে যান স্টেশনে। ট্রেনে ওঠার আগে বলেন, দার্জিলিঙ কখনও যাইনি।

প্রথমবার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছি। টয় ট্রেন যাচ্ছে শুনেই টিকিট কেটে ফেলি। টয় ট্রেনে বসে পাহাড়কে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে সত্যিই আনন্দিত। পাশাপাশি আরও বলেন, পাহাড়ের আন্দোলন প্রসঙ্গ নিয়ে কিছু বলবো না। কিন্তু পর্যটকদের কথা ভাবা উচিত। এদিকে আগামী ২৭ ডিসেম্বর দার্জিলিঙে শুরু হচ্ছে পর্যটন উৎসব। মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাহাড়ে আন্দোলনের জেরে টয় ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রশাসন ও জিটিএ–র তরফে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়। এরপর দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের তরফে বলা হয় ডিসেম্বরেই চালু হবে টয় ট্রেন। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবে ট্রেনটির আগে ছিল একটি ট্রায়াল ইঞ্জিন। সেই ইঞ্জিন স্টেশনে পৌঁছে সবুজ সংকেতের পরেই পেছনে যাচ্ছিল যাত্রীবাহি টয় ট্রেনটি। এদিন সুকনা স্টেশনে কয়েকজন হকার আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। যাত্রী সমেত ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতেই হকাররা ভিড় জমান কোচের জানালায়। এদিন এনজেপি–দার্জিলিং স্টেশনের মাঝে প্রতিটি স্টেশনেই মানুষের ভিড় ছিল টয় ট্রেন দেখার জন্য। খুদেরাও অনেকদিন পর পাহাড়ি পথে টয় ট্রেন দেখে বেশ আনন্দিত হয়। ট্রেনের পাশ দিয়ে দৌড়ে কিংবা সাইকেল চালিয়ে আগে যাওয়ার মজা নিচ্ছিলেন সকলেই। এদিন সন্ধ্যায় দার্জিলিং গিয়ে পৌঁছায় টয় ট্রেন। জানা গেছে, শনিবার থেকে শিলিগুড়ি পাশাপাশি দার্জিলিং থেকেও শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে টয়ট্রেন রওনা দেবে। ভাড়া থাকছে মাথাপিছু ১২০০ টাকা।
           ‌‌

 

 

 

হাতে ক্যামেরা। টয় ট্রেন থেকে বাইরে চোখ নবদন্পতির। ছবি:‌ শুভঙ্কর পাল
ভায়োলিন বাজিয়ে টয় ট্রেনকে স্বাগত জানাচ্ছেন ভগবান দাস। ছবি:‌ শুভঙ্কর পাল ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top