অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ১২ ফেব্রুয়ারি- কালচিনির পর এবার কুমারগ্রাম ব্লক। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগে গোটা ব্লকের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে বড়সড় ধস নামল। সিপিএম, আরএসপি ছেড়ে মোট ৩৫ জন নেতা তৃণমূলে নাম লেখালেন। যার মধ্যে বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য, একজন উপপ্রধান, প্রাক্তন উপ–প্রধান, আরএসপি–র শাখা সম্পাদক, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা রয়েছেন। একসঙ্গে ৩৫ জন এদিন আলিপুরদুয়ারে জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে আসেন। তাঁদের হাতে পতাকা তুলে দেন দলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা, সাংসদ দশরথ তিরকি। এদিকে তৃণমূল সূত্রে খবর, বিরোধী শিবিরে ধস নামাতে নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন সাংসদ দশরথ তিরকি। সোমবার দশরথ তিরকি খুব স্পষ্ট জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ ও ১৮ তারিখ কুমারগ্রাম ব্লকে বিরোধী নেতারা তৃণমূলে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, কালচিনি ব্লকে তৃণমূলের অন্যতম বিরোধী ছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। তবে প্রায় ৭৫ জন মোর্চা নেতা কালচিনি–জয়গাঁ মিলিয়ে তৃণমূল শিবিরে পা রাখায় ইতিমধ্যে কালচিনি ব্লক কার্যত বিরোধীশূন্য। কালচিনিতে মোর্চাকে ভাঙতে অন্যতম উদ্যোগ নিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা। কার্যত কালচিনি মডেলেরই ছায়া এবার কুমারগ্রামে। মোহন শর্মা এদিন দাবি করেন, কুমারগ্রাম ব্লককে আমরা পুরোপুরি বিরোধীশূন্য করব। পঞ্চায়েতে কুমারগ্রামে একটি আসনও বিরোধীরা পাবে না। আজ যে ৩৫ জন নেতা এসেছেন তাঁদের সকলের সঙ্গে যদি ৫০০ জন করে মানুষও থাকেন, তাহলেও আমরা প্রায় ২০ হাজার মানুষের নতুন করে সমর্থন পেতে চলেছি। বর্তমানে সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য পিসুনাথ রায়, আরএসপি–র শাখা সম্পাদক বীরেন দাস–সহ পরিচিত বামফ্রন্ট নেতা শঙ্কু গুহ চৌধুরিরা জানান, ‘‌বামফ্রন্ট এখন ফেসবুকে আন্দোলন করছে। বামফ্রন্টের যে প্রতিবাদ আন্দোলন করার কথা ছিল, আজ তা তৃণমূল কংগ্রেস করছে।’‌ যাঁরা দলত্যাগ করেছেন, তাঁরা সরাসরি বামফ্রন্টের তীব্র কোনও সমালোচনা না করলেও স্পষ্ট জানান, একসময় কুমারগ্রাম ব্লক ডুয়ার্সে ‘লাল দুর্গ’ বলে পরিচিত ছিল। আজ সেখানেই সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় বামপন্থীরা। এদিকে, ব্লক থেকে একসঙ্গে এত নেতা একদিনে তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও জোর কল্পনা। ১৭–১৮ ফেব্রুয়ারি আরও কারা যোগ দেবেন তা নিয়েও চলছে খোঁজখবর।‌‌

 বাম থেকে তৃণমূলে। তুলে দেওয়া হচ্ছে দলের পতাকা।ছবি:‌ অম্লানজ্যোতি ঘোষ

জনপ্রিয়

Back To Top