আজকালের প্রতিবেদন, দার্জিলিং: পাহাড়ের ইতিহাসে প্রথমবার টয় ট্রেন ও ল্যান্ড রোভার গাড়ি পাশাপাশি ছুটবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে, একই গতিতে। তিস্তা–রঙ্গিত পর্যটন উৎসবে। ট্রেন ও গাড়ি উভয়েই থাকবেন সাংস্কৃতিক দলের মানুষজন। চলন্ত টয় ট্রেনের মধ্যেই চলবে পাহাড়িয়া লোকগান আর নৃত্যের সমারোহ। জানিয়েছেন সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধান। দার্জিলিং পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে যদি কেউ সান্দাকফু বা সিঙ্গালীলা দেখে আসতে চান, তবে তাঁদের ল্যান্ড রোভার গাড়িতেই মূলত নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে এই গাড়িই ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই গাড়ি ব্যবহার হয়ে আসছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে পাহাড়ে এই গাড়িও একরকম ঐতিহ্যের। সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে মোট ৪২টি গাড়ি আছে। ২৮ ডিসেম্বর সমস্ত গাড়ি পর্যটন উৎসবের জন্য নামিয়ে আনা হচ্ছে। মানেভঞ্জন হয়ে সুখিয়াপোখরি দিয়ে ঘুম স্টেশনে আসবে গাড়িগুলি। উল্লেখ্য, ২৭ ডিসেম্বর থেকে পাহাড়ে শুরু হচ্ছে পর্যটন উৎসব। সব কিছু ঠিক থাকলে ওই উৎসবে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। ২৮ ডিসেম্বর আছে শিল্প সম্মেলন। ৩১ ডিসেম্বর উৎসবের সমাপ্তি। পর্যটন উৎসবকে জাঁকজমক করতে ব্যাপক আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত পাহাড় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পর্যটকদের ফের আকর্যণ করতেই এই উৎসবকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সময় মানেভঞ্জনের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের বিনা পয়সায় থাকার বন্দোবস্ত করার কথা চলছে। উৎসবের সময় সান্দাকফু বা সিঙ্গালীলায় ঘুরতে গেলে ৫০০ টাকা ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পর্যটন উৎসবকে নতুন মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিনয় তামাং, অনীত থাপারা চাইছেন এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড় নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হওয়া শঙ্কা–‌ভীতি সমস্ত মুছে দিয়ে পাহাড়ের অর্থনৈতিক দিকগুলিকে পুনরায় সচল করতে।

জনপ্রিয়

Back To Top