অলক সরকার ও সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং, ২৮ ডিসেম্বর- পাহাড়ের ইতিহাসে এমন দৃশ্যের দেখা মেলেনি এর আগে। হেরিটেজ টয় ট্রেন আর ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ড রোভার গাড়ি পাশাপাশি ছুটল। সেই বাষ্পচালিত টয় ট্রেনের হুডখোলা বগিতে পাহাড়ের নানা জনজাতির মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরলেন। অন্তত ৫০ জন পর্যটক কেউ টয় ট্রেনে, কেউ বা ল্যান্ড রোভার গাড়িতে অন্য এক অনুভূতির স্বাদ নিতে নিতে দার্জিলিঙে পৌঁছলেন। এ এক অন্য অভিজ্ঞতা। দার্জিলিঙে বেড়াতে এসে এমন ঘটনার সাক্ষী থাকতে পেরে খুশিতে মেতে উঠলেন সবাই। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যে দার্জিলিং পর্যন্ত ৮৬ কিলোমিটার রেললাইন তৈরি হয়। ধীরে ধীরে চালু হয় রেল পরিষেবা। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো টয় ট্রেনকে হেরিটেজ ঘোষণা করে। ক্রমে টয় ট্রেন দার্জিলিঙের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে। দার্জিলিং মানেই টয় ট্রেন। অন্যদিকে, পঁাচের দশকে ব্রিটিশ চা–বাগান মালিকদের হাত ধরে পাহাড়ে আসে ল্যান্ড রোভার গাড়ি। পাহাড়ে তখন পাথুরে রাস্তা। ওই রাস্তায় চলার উপযোগী বলেই এই গাড়ি আনা হয় পাহাড়ে। ল্যান্ড রোভার প্রথম সিরিজের গাড়ি গোটা পৃথিবীতেই বিরল। সেই গাড়ি এখনও চলছে দার্জিলিঙে। সান্দাকফু–ফালুট রুটে এখনও এই গাড়িতেই সাফারি চলে। যন্ত্রাংশের অভাবে অনেকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। তারপরেও ৪২টি গাড়ি এখনও চলছে পাহাড়ে। পর্যটন উৎসবে তাই দুই হেরিটেজ গাড়ি পাশাপাশি চালানো হয়। যেন পর্যটকদের মধ্যে আরও বেশি সাড়া ফেলা যায়। শুধু তাই নয়, মানেভঞ্জন এলাকায় জিটিএ থেকে নিখরচায় পর্যটকদের ক্যাম্প ফায়ার করিয়ে তাঁবুতে রেখে এদিন টয় ট্রেনে নিয়ে আসা হয়। পোলবা থেকে রিপন দত্ত, মেদিনীপুরের বিধান দাস সান্দাকফু থেকে ফেরার সময় এই সাফারি পেয়ে উঠে পড়েন। তাঁদের মধ্যেও অন্য এক উন্মাদনা। এদিকে, সিঙ্গালিলা ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধান এই গাড়িকে রাষ্ট্রীয় হেরিটেজ ঘোষণার দাবি করেছেন। এদিন আবার কার্সিয়াঙে পর্যটন উৎসব শুরু হয়। প্যারাগ্লাইডিং করে সেখানেও তিস্তা–রঙ্গিত পর্যটন উৎসবকে অন্য মাত্রা দেওয়া হয়। গোটা পাহাড়ই রঙিন হয়ে উঠেছে।

পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলেছে টয় ট্রেন। পাশেই ছুটছে ল্যান্ড রোভার। ছবি:‌ সঞ্জয় বিশ্বাস‌

জনপ্রিয়

Back To Top