অভিজিৎ চৌধুরি,মালদা: চাঁচল থেকে গ্রেপ্তার হলেন এক মিম (অল ইন্ডিয়া মজলিস–‌ই–‌ইত্তিহাদ–‌উল মুসলিম–‌ইন পার্টি) নেতা। অভিযোগ, ফেসবুকে ওই নেতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ পৌঁছতেই বুধবার রাতে ওই মিম নেতাকে খানপুর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে চাঁচল থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মতিউর রহমান‌। ধৃত যুবক চাঁচলের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।
বেশ কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উসকানিমূলক প্রচারের অভিযোগ উঠছে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। হায়দরাবাদ থেকে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগও বিভিন্ন জেলা থেকেই উঠে আসছে। মালদা, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ–‌সহ বেশ কিছু জেলায় উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রচার চালানো হচ্ছে, প্রশাসনের কাছে এমন খবর এসেছে। সম্প্রতি হেমতাবাদ ও বাউরিয়ায় মাদ্রাসার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এই সংগঠন। যদিও সেই নির্বাচনে জিততে পারেনি। 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে চাঁচল–‌‌১ ব্লক তৃণমূলের সহ–‌সভাপতি এমদাদুল হক চাঁচল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁচল থানার খানপুর এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই মিম নেতা মতিউর রহমানকে। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬৭ আইটি অ্যাক্টের ৫০৫ এবং ৫০৯ আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মালদার চাঁচল থানার খানপুরের বাসিন্দা মতিউর রহমান। দু–‌বছর আগে তেলেঙ্গানার মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি–‌র পার্টিতে যোগদান করে মতিউর রহমান। চাঁচলের তৃণমূল নেতা এমদাদুল হকের অভিযোগ,  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য লিখে সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করেছে ওই ব্যক্তি। বিষয়টি নজরে আসার পরই তিনি চাঁচল থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই মিম নেতাকে। এর আগে তিনি এই জাতীয় কাজ করেছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে কোথায় কোথায় উগ্র প্রচার চালানো হচ্ছে, সে ব্যাপারে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে পুলিশের কাছে। মিম পার্টির জেলার নেতা আমির হোসেন জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করল তা বুঝতে পারছি না। আমরা আইনি পথে যাব। 

ধৃত মতিউর. ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top