অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: ফের ম্যালিঙ্গা বাঁশ বনে দেখা মিলল শার্দূল সম্রাটের। এবার বাঘমামার দেখা পেলেন বনকর্মী অজিত রায়। ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধে ৬টার পর ন্যাওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের চৌদাফেরি এলাকায় বাঘের ছবি ধরা পড়ে তাঁর ক্যামেরায়। পরদিন সকালেও ফের জায়গায় বাঘটিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। উচ্ছ্বসিত বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি বলেন, ‘‌আমরা খুবই খুশি। কিছুদিন আগেই বনবান্ধব উৎসবে মালবাজারে ছিলাম। রয়্যাল বেঙ্গল নিয়ে বন আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। আমরা সতর্ক রয়েছি। বাঘের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের বলা হয়েছে। ঘন ঘন বাঘের দর্শন রাজ্যের বন ও বন্যপ্রাণের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।’‌ 
রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিন্‌হা বলেন, ‘‌বনকর্মীরা যে সজাগ রয়েছেন, আমাদের ক্যামেরা যে ঠিকমতো  কাজ করছে তা আরও একবার প্রমাণিত হল।’‌ ২০২০ সালের প্রথম দিনটিতেই চমকে দিয়েছিল ন্যাওড়াভ্যালি। জাতীয় উদ্যানের ৬ মাইল এলাকার কাছে ট্র‌্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়ে। তবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর ট্র‌্যাপ ক্যামেরাতে যে বাঘের ছবি ধরা পড়েছিল, এটি সেই বাঘ নাও হতে পারে। ছবিটি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। এবারে দেখা বড় আকৃতির নাদুশনুদুশ বাঘটি অল্প সময়ের মধ্যে জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যায়। অনুমান, প্রায় ১৫০ বর্গ কিমি এলাকার জাতীয় উদ্যানটির ভেতর এই মুহূর্তে ২-‌৩টি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। চোরাশিকারিদের কথা মাথায় রেখে বছরের শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখানে বনচৌকির সংখ্যা বাড়ানো হবে। আরও ট্র‌্যাপ ক্যামেরা লাগানো হবে। ২০১৭ থেকে প্রতি বছরই ন্যাওড়াতে বাঘের ছবি ধরা পড়ছে। 
স্টেট ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডের মেম্বার অনিমেষ বসু বলেন, ‘‌খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। গোটা বিশ্ব থেকে যখন বাঘের অবলুপ্তির খবর ভেসে আসছে, তখন প্রমাণ হচ্ছে, রয়্যাল বেঙ্গলের স্থায়ী আবাস হিসেবে ন্যাওড়াভ্যালির জঙ্গলে পরিবেশ সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছে।’‌ অনিমেষবাবুর কথায়, গোটা দেশের মধ্যে নামডাফা অরণ্যের পর ন্যাওড়াভ্যালি দ্বিতীয় অরণ্য যেখানে ৭ প্রজাতির বিড়াল গোত্রের প্রাণীর দেখা মেলে। এখানে মানুষের ছোঁয়া কম পড়েছে। দেশের অন্যতম ‘‌ভার্জিন’‌ ফরেস্ট। উত্তরবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপাল উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ‘‌আশা করছি দ্রুত আরও ফটো আসবে। আমরা গোটা বিষয়টির ওপর নজর রেখেছি।’‌ ম্যালিঙ্গা বাঁশের বন নিয়ে কিছুটা চিন্তিত বিশেষজ্ঞ মহল। হাজার হাজার বছর ধরে গজিয়ে ওঠা বাঁশের গভীর এই বন বাঘের অবাধ বিচরণের পক্ষে সুবিধাজনক নয়। গভীর বাঁশবনে শিকার লুকিয়ে পড়লে বাঘের কিছু করার থাকে না। বন দপ্তর প্রায় ২ বছরের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে। ‌ম্যালিঙ্গা ম্যানেজমেন্টের দিকেও নজর রাখছে।

 

ট্র‌্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘ। ছবি: সংগৃহীত‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top