আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ১০ জুলাই

আবহাওয়া দপ্তর থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। সেই মতো বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে টানা বৃষ্টিতে জল বেড়েছে উত্তরের বিভিন্ন নদীতে। জল বেড়ে যাওয়ায় তিস্তায় লাল সঙ্কেত এবং জলঢাকা নদীতে হলুদ সঙ্কেত জারি হয়েছে। বিভিন্ন চা–বাগানে জল ঢুকে পড়েছে। জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
টানা ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি‌র জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে জলপাইগুড়ি শহর। ময়নাগুড়ির দোমোহনি থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত‌বর্তী পর্যন্ত অসংরক্ষিত এলাকায় তিস্তা নদীতে সেচ দপ্তর থেকে লাল সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। হলুদ সঙ্কেত জারি হয়েছে জলঢাকা নদীতে। শুক্রবার সকালে তিস্তার গাজলডোবা ব্যারেজ থেকে ৩২১৮.৭২ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ফলে জলস্তর অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
জলপাইগুড়ি‌র কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অমৃতসর, বরেলি, পাটনা, ভাগলপুর ও হিমালয়ের পাদদেশের ওপর দিয়ে রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। অন্য একটি ঘূূূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে বিহার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায়। এই জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এক‌ইভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হবে সিকিমেও। বেশি বৃষ্টিপাত হবে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। এই তিন জেলার কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখছেন জলপাইগুড়ি‌র কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়া বিজ্ঞানী স্বপনকুমার রায়। 
‌ডুয়ার্সেও সব নদীতেই জল বেড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ফুঁসছে মাল ব্লকের চেল নদী। ইতিমধ্যেই চেল নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ বিঘা কৃষিজমি। আর সব থেকে বড় বিপদ চেল নদীর জল সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে প্রায় ৪০০ মিটার মাটির বাঁধ। গত ২৪ ঘণ্টায় পাহাড়ে হালকা মাঝারি বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেলেও সমতলে অর্থাৎ শিলিগুড়িতে লাগাতার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার সারাদিনই আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা ছিল। সঙ্গে ছিল একটানা বৃষ্টি। বৃষ্টিপাতের জেরে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেছে শহরে। তবে কোথাও জল জমার খবর পাওয়া যায়নি। মহানন্দা, বালাসন নদীতে জলের পরিমাণ বেড়েছে। 
আলিপুরদুয়ারে ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় জল জমার খবর রয়েছে। অতিবৃষ্টির জেরে মাদারিহাটে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে জল বইছে, যার জেরে মাদারিহাট এবং টোটোপাড়ার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বীরপাড়া–লঙ্কাপাড়ার কাছে একটি ডাইভার্সন জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকায় যান চলাচল স্তব্ধ রয়েছে। জেলার রায়ডাক, সঙ্কোশ, তোর্সা, কালজানি–সহ বিভিন্ন নদীতে জল বেড়ে গেছে। 
কোচবিহারেও শুক্রবার ভোর থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অন্যান্য জেলা যেমন উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরেও হালকা মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতে এলাকার কিছু কিছু ওয়ার্ডে জল জমেছে বলেও জানা গেছে। 

রাস্তায় জমে আছে জল। তার মাঝেই ছুটছে বাইক। ছবি:‌ পার্থসারথি রায়

জনপ্রিয়

Back To Top