অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২৯ জানুয়ারি- চা–বলয়ে খুশির হাওয়া। খুলতে চলেছে ডানকানসের দুই চা–বাগান। প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকার পর একই সঙ্গে একই দিনে খুলতে চলেছে হান্টাপাড়া ও গেরগান্ডা। কলকাতায় নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে এদিন ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে দুই বাগান খোলার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। ৪ ফেব্রুয়ারি দুই বাগানের ৩,৭০০ জন শ্রমিক ফের কাজ ফিরে পাচ্ছেন। মাদারিহাট ব্লকের দুই বাগানে পৌঁছতেই চা–শ্রমিকদের ঘরে স্বস্তি নেমে আসে। শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক কলকাতা থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানান, লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ভাঁওতা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, বন্ধ ডানকানসের আলিপুরদুয়ার জেলার ৮টি চা–বাগানই খুলে দেবে। একটাও খুলতে পারেনি। আমরা ইতিমধ্যে গ্রুপের দুটো বাগান খুলেছি। ফের আরও দুটি বাগান খুলছে ৪ তারিখ। আমরা ৩৬৫ দিন কাজ করছি। বন্ধ চা–বাগান খোলার বিষয়ে রাজ্য সরকার যে সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে, তা আজ ফের প্রমাণিত। কলকাতা থেকে ফোনে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মোহন শর্মা জানান, মেরিকো কোম্পানি বাগানটি খুলতে চলেছে। তাঁদের ডুয়ার্সে একটি মাত্র চা–বাগান রয়েছে কালচিনি ব্লকে চিঞ্চুলা। এবার কোম্পানিটি নতুন আরও দুটি বাগানের দায়িত্ব নিতে চলেছে। নতুন মালিকরা কথা দিয়েছেন তাঁরা শ্রমিকদের বকেয়া বোনাস ৩ বছরে খেপে খেপে মিটিয়ে দেবেন। পিএফ, গ্র‌্যাচুইটি যা বকেয়া রয়েছে তা পরিশোধ করবেন। প্রায় ৩ বছর অচল থাকায় বাগান দুটির অনেক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে বাগান দুটিকে আবার আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনবেন তাঁরা। ৪ ফেব্রুয়ারি দুটি বাগানে পুজো করা হবে। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। 
কেন ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ
উল্লেখ্য, ডানকানস গোষ্ঠীর হাতে থাকা দুই বাগান স্বল্পপরিচিত একটি কোম্পানির হাতে যেতে চলেছে। যেহেতু ডানকানসের বাগানগুলি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছিল, বিষয়টি আরও জটিল ছিল। প্রায় সব শ্রমিক সংগঠনের ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাগান খুলছে। পাশাপাশি নতুন একটি কোম্পানি প্রায় ৩ বছর অচল–থাকা দুটি বাগানের দায়িত্ব নিতে চেয়ে এগিয়ে এসেছে, যেখানে বকেয়া পাওনাগণ্ডা প্রচুর। উত্তরবঙ্গের চা–বলয়ে এমন নজির খুব একটা নেই। শ্রমিক সংগঠন সিটুর চা–বলয়ের অন্যতম নেতা রবিন রাই ও ডুয়ার্স চা–বাগান ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোপাল প্রধান জানান, ভাল খবর। আমরা নতুন মালিকপক্ষকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি তাঁরা যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাগান খুলছেন তা পালন করবেন। 
রাজনৈতিক গুরুত্ব
আলিপুরদুয়ার জেলায় বন্ধ চা–বাগানের সংখ্যা সর্বাধিক। মোট ৯টি। মাদারিহাট ব্লকেই ৬টি। মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে শাসক দলের হাতছাড়া হয়েছে। আপাতত তা বিজেপি–র দখলে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে একসঙ্গে দুই বাগান খোলায় অনেকটা স্বস্তিতে থাকবে শাসক দল। মোহন শর্মা জানান, আমরা খুব দ্রুত বাকি আর সব চা বাগানও খুলে দেব। এদিকে, ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গেরগান্ডা ও হান্টাপাড়া। স্থানীয়দের দাবি, কাজ না থাকায় গত সাড়ে ৩ বছরে অনেক চা শ্রমিক পরিবারের লোকেদের বাগানে রেখে ভিন্‌রাজ্যে চলে গেছে। অনাহার, অপুষ্টি, অর্ধাহার ছিল বাগানের নিত্যসঙ্গী। তবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা দেখবেন ৩,৭০০ শ্রমিক। ডানকানস গোষ্ঠীর অপর অচল চা–বাগান তুলসীপাড়া খুলতে গিয়েও খোলেনি। এমনকি মন্ত্রীকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই সতর্ক ছিল সংশ্লিষ্ট মহল। কলকাতায় উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম চা শ্রমিক নেতা প্রভাত মুখার্জি বলেন, আজকের ঘটনা আগামী দিনের জন্য ইতিবাচক হয়ে থাকল।

ফের খুলছে হান্টাপাড়া চা-‌বাগান। ছবি:‌ বিজয় দাস‌

জনপ্রিয়

Back To Top