আজকালের প্রতিবেদন, আলিপুরদুয়ার, ২৫ নভেম্বর- অবশেষে খুলতে চলেছে কুমারগ্রাম ব্লকের তুরতুরি চা–‌বাগান। সোমবার আলিপুরদুয়ারে জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে বাগান সচল করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। মঙ্গলবার থেকেই বাগান সচল হচ্ছে। পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে কাজ। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র বোনাস নিয়ে মালিকপক্ষ আর চা–‌‌শ্রমিকদের মধ্যে দড়ি টানাটানির জেরে ২৩ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যায় তুরতুরি চা–‌বাগান। একের পর এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকে শ্রমদপ্তর। ব্যর্থ হয় চারটি বৈঠক। মালিক–‌শ্রমিক উভয়পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন। সোমবার অবশ্য ইতিবাচক চুক্তি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শ্রমদপ্তর থেকে জানা গেছে, চা–‌শ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য ৯ শতাংস বোনাস একসঙ্গেই পাবেন। দেওয়া হবে মঙ্গলবারই। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে বকেয়া বেতন দেওয়া হবে। এরপর নতুন বছরে ৫ ফেব্রুয়ারি বাগানের যাবতীয় পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হবে বাগানে। তৃণমূল চা–‌শ্রমিক মজদুর ইউনিয়নের সহ–‌সভাপতি প্রভাত মুখার্জি, সিটুর সভাপতি বিদ্যুৎ গুণ–‌সহ ডান বাম ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন। প্রভাত মুখার্জি বলেন, মালিকেরা দাবি মেনে নিয়েছেন। বৈঠক সফল হয়েছে। আশা করছি নতুন করে বাগানটিতে সমস্যা তৈরি হবে না। এদিকে একদিকে যখন তুরতুরি চা–‌বাগান খুলছে তখন সাম্প্রতিককালে চা–‌‌বাগান নিয়ে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি কলকাতায় নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে দুপুরে শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বন্ধ, অচল, রুগ্‌ণ, দুর্বল, খোলা সব চা–‌বাগান নিয়ে একসঙ্গে ৬ জন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী বৈঠক করেন। ছিলেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। দ্রুত রাজ্য ক্যাবিনেটে বিষয়টি আলোচিত হবে। 
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং মিলিয়ে বন্ধ অচল বাগান রয়েছে ২০টির কাছাকাছি। চা–‌বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, আমরা সব চা–‌বাগান খুলে দেব। চা–‌শ্রমিকেরা জানেন কেন সমস্যা হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকার চা–‌শ্রমিকদের পাশেই আছে তা চা–‌শ্রমিকরা উপলব্ধি করেছেন। আশা করছি বাগান খোলা নিয়ে দ্রুত ভাল খবর দিতে পারব শ্রমিকদের। তুরতুরি চা–‌বাগানে ৪০০ ঘর চা–‌শ্রমিক পরিবার রয়েছেন।

তুরতুরি চা–‌‌কারখানা। ছবি:‌ অম্লানজ্যোতি ঘোষ

জনপ্রিয়

Back To Top