পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি, ১৯ ফেব্রুয়ারি- গত আড়াই বছরে এক কেজি চা–ও নিলাম হয়নি জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রে। সমস্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এই নিলাম কেন্দ্রকে হেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এবার সরব হলেন জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস নেতারা। জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র চালু করা না হলে শিগগিরই অনশনে বসার হুমকি দেন তাঁরা। অবিলম্বে চা নিলাম কেন্দ্রকে ফের সচল করার দাবি তোলা হয়। জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অনেক চেষ্টা চালিয়ে ২০১৫ সালের আগস্ট মাস থেকে এই চা নিলাম কেন্দ্রটি ফের চালু করা হয়েছিল। এক মাসও টিকিয়ে রাখা যায়নি। মাত্র পাঁচবার নিলাম হওয়ার পরই ফের বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে গত আড়াই বছরে এক কেজি চা–ও নিলাম হয়নি এখানে। চা–বাগান ও ফ্যাক্টরি মালিকরা নিলামের জন্য চা না পাঠানোয় এখানে আর নিলাম হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়সারা মনোভাবের জন্যই এই নিলাম কেন্দ্রটি অচল হয়ে রয়েছে। চালু করা না হলে শিগগিরই অনশনে বসব। নিলাম কেন্দ্র সূত্রে খবর, ওই সময় দিনকয়েক কমবেশি চা নিলাম হলেও ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেউই খুশি ছিলেন না। বিক্রেতাদের বক্তব্য, জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রে তাঁরা চা পাঠালেও নিলামে দাম পাচ্ছিলেন না। অন্যদিকে ক্রেতাদের বক্তব্য ছিল, ভাল গুণমানের চা পাঠানো হচ্ছিল না এই নিলাম কেন্দ্রে। এমনই সব টালবাহানার জেরে রীতিমতো অচল হয়ে পড়ে রয়েছে এই নিলাম কেন্দ্রটি। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন উদ্বোধন করেছিলেন এই কেন্দ্রের। তার পর থেকে চায়ের অভাবে বেশ কয়েকবার এখানে বন্ধ হয়েছে চা নিলাম। ট্যাক্সে ছাড় না মেলায় বারবার হতাশ হতে হয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। ক্রেতাদের অনেকেরই অভিযোগ, ডুয়ার্সের বড় বড় চা–বাগান মালিকেরা চা পাঠাচ্ছিলেন না এই চা নিলাম কেন্দ্রে। শিলিগুড়ি ও কলকাতার নিলাম কেন্দ্রগুলোতে সমস্ত বড় বাগানের চা পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতারাও এই নিলাম কেন্দ্রের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। ‌

জলপাইগুড়ির চা-‌নিলাম কেন্দ্র। ছবি:‌ পার্থসারথি রায়‌

জনপ্রিয়

Back To Top