অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ১২ ফেব্রুয়ারি- ‘‌প্রধান হোক অথবা ব্লক সভাপতি, কারও খবরদারি দল বরদাস্ত করবে না। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।’‌ দলের নেতা–‌ কর্মীদের কাছে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সি। সোমবার পুরাতন মালদা থানার নারায়ণপুরের কাছে মিশন রোডে বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল মালদা জেলা তৃণমূল। সেই সভায় ছিলেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর বক্তব্য, ‘‌মালদা জেলার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে গেলে জনগণের রায়ে জিতে আসতে হবে।’‌ সুব্রত বক্সি, শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও এদিনের সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন রাজ্যের ৩ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, জাকির হোসেন ও বাচ্চু হাঁসদা। মঞ্চে ছিলেন জেলার ২ প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র ও কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি। এদিনের সভা পরিচালনা করেন জেলার কার্যকরী সভাপতি ও ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার। বক্তা ছিলেন জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, বিধায়ক ও পুরপ্রধান নীহার ঘোষ। সভায় উপচে পড়েছিল ভিড়। 
হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে বৈষ্ণবনগর, বামনগোলা থেকে ইংরেজবাজার— ‌১৫টি ব্লক থেকে এসেছিলেন তৃণমূল কর্মী–‌‌নেতারা। মূল মঞ্চটি করা হয়েছিল প্রয়াত তৃণমূল নেতা বিপ্লব নায়েকের নামে। তৈরি হয়েছিল ৩টি মঞ্চ। সুব্রত বক্সি বলেন, ‘‌নানা ঘাত–‌‌প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে তৃণমূল দলটি তৈরি করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, তাতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ সাম্প্রদায়িক বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। খুব বেশি দেরি নেই, যেদিন মমতা ব্যানার্জি গোটা দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। মানুষকে নানা স্বপ্ন দেখিয়ে যে বিজেপি দলটা কেন্দ্রের শাসন ক্ষমতায় এসেছে, তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ৯ কোটি ৩০ লক্ষ জনগণ এই রাজ্যে। তার মধ্যে ৬ লক্ষ ৮৩ লক্ষ ভোটার। তাঁদের মধ্যে এমন কোনও মানুষ নেই, তৃণমূল সরকারের সুফল পাননি। একমাত্র মমতা ব্যানার্জি যিনি বুথ থেকে সর্বভারতীয় স্তরে সাংগঠনিক নির্বাচন করে দলটিকে তৈরি করেছেন।’‌
এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‌সারা দেশে এখন মমতা ব্যানার্জিকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে। দিদির ডাক এসেছে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার। কংগ্রেস পারবে না। অন্য দলের অবস্থাও একইরকম। পারবেন একমাত্র মমতা ব্যানার্জি। কংগ্রেস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সিপিএম সাইন বোর্ড হয়ে গেছে। ফলে তৃণমূলকেই মানুষ চাইছে। আমি মালদায় যখন দায়িত্ব নিই, তখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল দল। লোকসভা, বিধানসভা এমনকী পঞ্চায়েতেও খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি তৃণমূল। কিন্তু পরে মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে ২ জন বিধায়ক দলে এসেছেন। একাধিক পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে ক্ষমতায় এসেছে। জেলা পরিষদেও নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় আছি। কিন্তু আমরা চাই না, এইভাবে ক্ষমতায় থাকতে। প্রতীক চিহ্নে মানুষের রায়ে মালদায় আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই। দলের মধ্যে যে সব সাংগঠনিক ত্রুটি এবং অসুখ রয়েছে, তাকে দূর করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল ফল করতে হবে। মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের কথা গ্রামে গ্রামে প্রচার করতে হবে। মানুষের এই চাওয়া–‌‌পাওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে দলের কর্মী–‌‌নেতাদের। জোড়া ফুলের প্রতীক ও মমতার ব্যানার্জির ছবি দিয়ে প্রচার করুন, এটাই দলের নির্দেশ। প্রচারে মমতা ব্যনার্জির ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি দিতে হলে অনুমতি নিতে হবে।‌’‌‌

বুথভিত্তিক কর্মিসভায় শুভেন্দু অধিকারী, সুব্রত বক্সি, নীহার ঘোষ, মোয়াজ্জেম হোসেন, দুলাল সরকার। মালদায়, সোমবার। ছবি:‌ অভিজিৎ চৌধুরি‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top