পঙ্কজ সরকার, মালদা, ৪ নভেম্বর- মানবিক রূপ পুলিশের। এক যুবককে গণপিটুনির আগেই উদ্ধার করে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে প্রাণে বাঁচাল মালদা থানার পুলিশ। রবিবার রাতে জলপাইগুড়ি থেকে পরিবারের লোকেরা এসে ওই যুবককে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যায়। পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি পরিবারের লোকেরা। কারণ, একরকম মৃত্যুর হাত থেকেই ফিরে পাওয়া তাঁদের সন্তানকে। বাহবা দিয়েছেন পুলিশকে। কারণ, যে কোনও সময় গণপিটুনির মতো  ঘটনা ঘটতে পারত ওই যুবকের সঙ্গে।
এখনও গণপিটুনির মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে গোটা জেলা জুড়ে। পুলিশ প্রশাসন সচেতন করার পরও ঘটে চলেছে অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলি। এমনকী পুলিশ কড়া ভাষায় গণপিটুনির সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করতে দেখা যায়। সে দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করেই দিনের পর দিন ঘটে চলেছে গণপিটুনির মতো ঘটনা। সেখানে পুলিশ সঠিক সময়ে পৌঁছলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে। কোনও সময় মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটছে। মালদা থানায় উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম সত্যম রায় (‌১৯)‌। বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানার পাণ্ডাপাড়া কালীবাড়ি এলাকায় বাড়ি তাঁর। বাবা বীরেণ রায় মৃত। গত ২ নভেম্বর সন্ধের দিকে মালদা থানার কামঞ্চ এলাকায় উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ। কথা বললেও অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছে পুলিশের। পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তারপর বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর নাম, ঠিকানার হদিশ পায়। সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করা হয় এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবারকে মালদা থানায় আসার জন্য বলা হয়। সেই হিসেবে রবিবার সন্ধেয় ওই যুবকের মা–‌সহ পরিবারের লোকেরা এসে নিয়ে যান তাঁদের ছেলেকে। 
মালদা থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা বলেন, ‘‌কামঞ্চ এলাকায় ওই যুবককে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতে দেখি আমরা। তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে ওর নাম, ঠিকানা জানতে পেরে কোতোয়ালি থানায় আমরা যোগাযোগ করি। সেই হিসেবে এদিন আমরা ওর পরিবারের হাতে তুলে দিই। পরিবারের কাছে আমরা জানতে পেরেছি, গত ২৫ অক্টোবর ওই যুবক নিখোঁজ হন। গত ২৭ অক্টোবর পরিবারের লোকেরা কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন।’‌‌

উদ্ধার হওয়া সত্যম রায়। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top