অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ৫ মার্চ- নিয়োগপত্রের দাবিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মালদা কালেক্টরেটের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ২০০৯–১০ বর্ষের প্রাথমিক স্কুল চাকরিপ্রার্থীরা। শতাধিক টেট–উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থী সেই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। এবার সেই আন্দোনকারীদের পাশে দাঁড়ালেন অভিভাবকেরা। সোমবার অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের অভিভাবক ও তাঁদের বাড়ির লোকজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতিকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে রয়েছে ইংরেজবাজার থানার পুলিস ও র‌্যাফ। অভিভাবকদের সাফ কথা, যতক্ষণ না চাকরিপ্রার্থীদের দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ তাঁরাও সংসদ অফিস ছাড়ছেন না।
দ্রুত প্যানেল প্রকাশ ও নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছেন ২০০৯–১০ সালের টেট–উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলায় রায়ও আছে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে। অথচ রাজ্য সরকার বিষয়টিকে আদালতের বিচারাধীন দেখিয়ে এই চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ করতে টালবাহানা করে যাচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, মামলা প্রত্যাহার হওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট দ্রুত প্যানেল প্রকাশ ও নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ এখনও মানেনি সরকার। নিজেদের দাবি আদায়ে তাঁরা ১৫ দিন ধরে জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। 
এদিন বেলা ১২টা নাগাদ আন্দোলনকারী যুবক–যুবতীদের অভিভাবক ও তাঁদের বাড়ির লোকজন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরে হাজির হন। সংসদ সভাপতি আশিস কুণ্ডুকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আশিসবাবু প্রথমে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, এতদিন এ নিয়ে আদালতে মামলা চলায় ওই প্যানেল প্রকাশ করা যায়নি। আদালতের নির্দেশ হাতে পেলেই তাঁরা সেই প্যানেল প্রকাশ করবেন। কিন্তু আশিসবাবুর কথায় কান দিতে রাজি হননি বিক্ষোভকারী অভিভাবকেরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি আশিস কুণ্ডুকে ঘিরে বিক্ষোভ। সোমবার। ছবি:‌ অভিজিৎ চৌধুরি‌

জনপ্রিয়

Back To Top