অলক সরকার,শিলিগুড়ি: চতুর্থ বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হচ্ছে কলকাতায়। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই এসেছে ১০০ কোটির বিনিয়োগ। এবারই প্রথম বিশ্বের ৩০টি দেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দল যোগ দিয়েছে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে। এবারই প্রথম ১০টি চিনের সংস্থা এদেশে আসছে। এমন সুযোগকে হাতছাড়া করতে রাজি নন উত্তরবঙ্গের মন্ত্রীরাও। উত্তরবঙ্গের প্রতি আলাদা দুর্বলতা আছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর। মূলত তাঁরই সৌজন্যে ৩০ দেশের ৫২ জনের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল উত্তরবঙ্গে আসছে ২১ জানুয়ারি। গন্তব্যস্থল মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প গজলডোবা মেগা ট্যুরিজম হাব। সেখান থেকে ৫২ জনের প্রতিনিধি দল ৫টি ভাগে ভাগ হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটনস্থল পরিদর্শন করতে যাবে। সেখানকার সম্ভাবনা দেখবেন। তার ওপরে ভিত্তি করেই উত্তরবঙ্গের পর্যটনে আসবে বিদেশি বিনিয়োগ। সেই সঙ্গে উপরি পাওনা হবে আরও বেশি বিদেশি পর্যটক পাওয়ার রাস্তা। কারণ, ওই প্রতিনিধি দলে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে থাকছেন বিভিন্ন দেশের ট্যুর অপারেটর এবং ভ্রমণ–‌লেখক। গোটা বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিতে পারবে উত্তরবঙ্গের পর্যটন। ‘ডেস্টিনেশন ইস্ট ২০১৮’–র মাধ্যমে এভাবেই তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। যে ৩০টি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা আসছেন তার মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেদারল্যান্ড, কলম্বিয়া ইত্যাদি। যে ৫টি সার্কিটে প্রতিনিধি দল ভাগ করা হয়েছে তা হল বেঙ্গল হিমালয়া, হিল অ্যান্ড ফরেস্ট, দার্জিলিং হেরিটেজ, দার্জিলিং টি এবং দার্জিলিং, মিরিক লেক। বেঙ্গল হিমালয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলি। সেখানে ১১ জন প্রতিনিধি পাঠানো হবে। হিল অ্যান্ড ফরেস্টের মধ্যে দার্জিলিং এবং ডুয়ার্স। সেখানে প্রতিনিধি যাচ্ছেন ১৯ জন। দার্জিলিঙের হেরিটেজ বাড়ি, মন্দির, হোটেল–‌সহ নানা বিষয় পরিদর্শন করবেন ৮ জন। চা পর্যটনের সম্ভাবনা দেখবেন ৬ জন। মিরিক লেক পরিদর্শনে থাকবেন ৮ প্রতিনিধি। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব জানান, ‘গজলডোবাকে ঘিরে নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। যার রূপকার মুখ্যমন্ত্রী। এখানে আমরা কী কী করতে চাই, তার বিস্তারিত তথ্য বাণিজ্য প্রতিনিধিদের জানানো হবে। তার পর তাঁদের থেকে আমরা বিনিয়োগের প্রস্তাব চাইব। সিআইআই প্রতিনিধি রাজ বসুর দাবি, এই পরিদর্শন উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে নতুন করে প্রাণ দেবে। বাড়বে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা। বিশ্বের মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ আরও বেশি করে পরিচিত হবে। পাহাড় আন্দোলনের কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সেই ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছি। তার সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ হলে শাপে বর হবে বলেই মনে করছি।’ অন্যদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই পাহাড়ে শিল্প সম্মেলন হবে বলে কলকাতা থেকে জানিয়েছেন বিনয় তামাং। তিনি এই মুহূর্তে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনেই আছেন। জানিয়েছেন, ‘আপাতত ঠিক হয়েছে শিল্প সম্মেলন আগামী মাসেই হবে। তবে তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। ওই সম্মেলন হলে পাহাড়ে শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’‌‌

 

সাংবাদিক বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। শিলিগুড়িতে, বুধবার। ছবি:‌ কৌশিক চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top