শুভঙ্কর পাল, শিলিগুড়ি, ২৯ জানুয়ারি- খুনের অভিযোগে মালিক গ্রেপ্তার হয়েছে। পরিবারের অন্যদেরও আটক করেছে পুলিস। রণক্ষেত্র জনতা নগর। এই পরিস্থিতিতে সরকার–পরিবারের আরেক সদস্য জ্যাকি তিনদিন অনাহারে বাড়ির মধ্যেই পড়েছিল। নির্জীব হয়ে। ধৃত সুরজিৎ সরকার কয়েক বছর আগে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল একটি কুকুর। নাম দেয় জ্যাকি। কিন্তু ২৬ জানুয়ারির সকাল থেকে তিনতলায় ঘরবন্দি হয়েছিল জ্যাকি। এলাকা অশান্ত হয়ে উঠতেই কোনওদিকেই নজর নেই কারও। খোঁজখবর নেয়নি কোনও প্রতিবেশীও। হামলার আতঙ্কে ঘরবন্দি তারাও। এদিকে, অবলা সেই প্রাণীটি সমানে ঘেউ ঘেউ করছে। আবার কখনও নিস্তেজ হয়ে বসে রয়েছে। তিনদিন ধরে এমনই করুণ অবস্থা। বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল। কখনও আবার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি। সোমবার সকাল থেকেই অনবরত ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছিল জ্যাকি। খিদের জ্বালা হয়তো আর সহ্য হচ্ছিল না। সেসময়ই এক প্রতিবেশী মহিলার থেকে জানতে পারলেন এসিপি অচিন্ত্য গুপ্ত। সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে গেলেন বাড়িতে। পুলিস দেখে সাহস পেয়ে এগিয়ে এলেন এক প্রতিবেশী তরুণী। দৌড়ে গিয়ে মাছ–ভাত নিয়ে এলেন। পুলিস আধিকারিকের সম্মতিতে বাড়ির ওপরে গিয়ে খাইয়ে দিলেন জ্যাকিকে। জ্যাকি লেজ নেড়ে যেন ধন্যবাদ জানাল। এরপরই এসিপি নিজে ফোন করেন এক পশুপ্রেমী সংগঠনকে। দুপুরে এলাকায় পৌঁছন পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। বাড়ির ওপরে গিয়ে কুকুরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। দেখা যায় জ্যাকির পায়ে সামান্য আঘাত। এদিন সংগঠনের সদস্যা প্রিয়া রুদ্র বলেন, কুকুরটিকে আমাদের কাছ রাখব। পা জখম। চিকিৎসা করাতে হবে। মঙ্গলবার আদালতে আবেদন জানাব যাতে কুকুরটিকে দেখভালের দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়। কুকুর কি কিছু বুঝল? হয়তো। পুলিসের দিকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রিয়ার কোলে দিব্যি চুপ করে থাকল জ্যাকি।

জ্যাকিকে নিয়ে অ্যানিম্যাল হেল্পলাইনের লোকজন। ছবি:‌ কৌশিক চক্রবর্তী‌

জনপ্রিয়

Back To Top