অলক সরকার, শিলিগুড়ি: হিমালয়ের হিমেল বাতাসে সমতলেও টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গে। কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা উত্তরের ৮ জেলায়। তাপমাত্রা এক ধাক্কায় নেমে এল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এদিন উত্তর দিনাজপুর, মালদা, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে তাপমাত্রা ছিল সব থেকে কম। ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে শিলিগুড়ি, বালুরঘাট এবং কোচবিহারের তাপমাত্রা। অন্যদিকে, সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এদিন ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে। নাথুলা, ছাঙ্গু–সহ উত্তর ও দক্ষিণ সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাত হয়েছে। রাস্তার ওপরও অনেক জায়গায় তুষার জমে গেছে। যার জেরে পাহাড় লাগোয়া সমতল এলাকাগুলিতে কাঁপুনি আরও বেড়েছে। একদিকে উত্তুরে বাতাস, অন্যদিকে ঘন কুয়াশা— সব মিলিয়ে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গে আসা সমস্ত ট্রেন দেরিতে চলেছে। দূরপাল্লার ট্রেনগুলি অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা দেরিতে চলছে। দার্জিলিং মেল, পদাতিক, কাঞ্চনকন্যা, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস–সহ সব ট্রেন এদিন দেরিতে পৌঁছেছে। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ভোরে এবং সন্ধের পর থেকে বাস–ট্রাক স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। দার্জিলিঙের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রির নিচে নেমেছে। রাতে এবং ভোরের দিকে আরও কমছে। 
এদিন দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় শিশির জমে সাদা হতে দেখা গেছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ভারত মহাসাগরের ওপরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে শীতল বাতাসে এমনিতেই তীব্র ঠান্ডা পড়েছে বাংলায়, অন্যদিকে একইসঙ্গে হিমালয় থেকে উত্তুরে বাতাস ঢুকে পড়ায় ঠান্ডার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়েছে। ঠান্ডার জেরে গোটা উত্তরবঙ্গেই এদিন দুপুরের আগে অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হননি। রাস্তাঘাটও প্রায় ফাঁকা ছিল। গ্রাম থেকে শহরের চায়ের দোকান, ভাপা পিঠের দোকানগুলিতে মানুষের ভিড় 
লক্ষ্য করা গেছে। শিলিগুড়ির হংকং মার্কেট, বিধান মার্কেট, হকার্স কর্নারের শীত পোশাকের দোকানে হামলে পড়েছিলেন ক্রেতারা।‌

সিকিমের রাস্তায় তুষারপাত। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top