অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২ সেপ্টেম্বর- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলির মধ্যে অন্যতম সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দর। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের ১০০’‌তম বিমানবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল পাকিয়ং। তখন ভাবা হয়েছিল, গোটা বিশ্বের সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগ এবার বাড়তে চলেছে। তার আগে যোগাযোগ বলতে ছিল একটি মাত্র পথ – ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। শিলিগুড়ি থেকে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে যেতে হলে এই সড়ক পথের ওপরই নির্ভর করতে হত। এছাড়া বড়জোর এর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে দিনে চার আসনবিশিষ্ট একটি হেলিকপ্টার। পাকিয়ং বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর পর্যটন মহলেও ভাল সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু গত জুন মাস থেকে পাকিয়ং–এ বন্ধ সমস্ত বিমান পরিষেবা। সিকিম প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষেবা চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঠিক, কিন্তু সামনের ভরা পর্যটন মরশুমে এর একটা আঘাত যে লাগতে চলেছে তা স্বীকার করে নিয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ী মহল।
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে নির্মিত বিমানবন্দরটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এখানে অবস্থিত। এ রাজ্যের সঙ্গে তিব্বত, ভুটান এবং নেপালের সংযোগ রয়েছে। গ্যাংটক থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত। চীনের সীমান্ত থেকে এই বিমানবন্দরটির দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৫০০ ফুট উঁচুতে ২০১ একর জায়গায় ওপর পেকং গ্রামে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১.৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রানওয়ের দুইপাশে গভীর উপত্যকা আছে। পাকিয়ং দেশের প্রথম গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর। উদ্বোধনের পর থেকে কলকাতা থেকে স্পাইসজেটের একটি উড়ান চালু হয়েছিল এখানে। কিন্তু গত জুন মাসে স্পাইসজেট এখানে আর পরিষেবা দিতে পারবে না বলে তাদের উড়ান বাতিল করে দেয়। 
জানা গেছে, সিকিমের উঁচু পার্বত্য এলাকা কুয়াশায় সর্বদাই ঢাকা থাকে বলে সেখানে দৃশ্যমানতা কম। পাকিয়ং–এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ কিমি দৃশ্যমানতার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে আছে ৩ কিমি দৃশ্যমানতা। তারমধ্যে নেই ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম (‌আইএলএস)‌। যার মধ্যে বিমান অবতরণে সমস্যা হয় পাইলটদের। পাকিয়ং এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর রামতনু সাহা জানিয়েছেন, ‘‌আমরা উড়ান পরিষেবা চালু করার বিষয়ে চেষ্টা চালাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন। এখানে আইএলএস–এর পাশাপাশি রানওয়ের জন্য আরও জমির প্রয়োজন আছে।’‌ 
উঁচু পার্বত্য এলাকায় শীতের সময় বিমান ওঠানামায় সমস্যা এমনিতে হয়েই থাকে বলে জানান এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর। ঠিক যেমনটা হয় কাশ্মীরের শেখ–উল–আলম বিমানবন্দরে। বাগডোগরা এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর পি সুব্রমনি এ বিষয়ে জানান, ‘‌আমি পাকিয়ং এয়ারপোর্ট দেখেছি। সাধারণত যে কোনও বিমানবন্দরের রানওয়ের চারপাশে ৯ কিমি পর্যন্ত খালি জায়গা রাখা প্রয়োজন। পাকিয়ং–এ সেই ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি, ধস প্রবণ এলাকা বলে সেখানে চারপাশে কম জায়গা রাখা হয়েছে। এতে বিমান ওঠানামায় সমস্যা তো হবেই।’‌
পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল এ বিষয়ে জানান, ‘‌সিকিম–গ্যাংটক আমাদের পর্যটন ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখন বাংলাদেশ থেকেও অনেকেই সিকিমে ঘোরার বিষয়ে যোগাযোগ করছেন। সেখানে বিমানবন্দর হওয়ার পর এই চাহিদা দ্বিগুন বেড়ে যায়। সিকিম প্রশাসনের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাকিয়ং–এ বিমান পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া।’‌

পাকিয়ং বিমানবন্দর। ছবি:‌ সংগৃহীত‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top