অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২৯ জানুয়ারি- চাঁদের রঙ সাদা থেকে নীল হয়ে লাল!‌ তা–ও আবার একই রাতে! এমন মহাজগতিক ঘটনাই ঘটতে চলেছে মহাকাশে। যাকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে। শিলিগুড়িই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? সূর্যগ্রহণ হোক বা চন্দ্রগ্রহণ, প্রতিবারের মতো এবারও এই মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থ বেঙ্গল (‌সোয়ান)‌। শিলিগুড়ি শহর থেকে একটু বাইরের দিকে সাহুডাঙি রামকৃষ্ণ আশ্রমের মাঠে সোয়ান–এর পক্ষ থেকে বসানো হচ্ছে টেলিস্কোপ। তাতে চোখ রেখেই সেদিনের চাঁদের বিভিন্ন রূপ ক্যামেরাবন্দি করবেন তাঁরা। এই সুযোগ পাবেন সাধারণেরাও। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলেও ওই টেলিস্কোপে চোখ রেখে এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সোয়ান–এর সম্পাদক দেবাশিস সরকার। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি বলেন, এই বিরল মুহূর্ত ফের কবে দেখা যাবে তার কোনও হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী হাজার বছরের মধ্যে তো নয়ই। আমরা শিলিগুড়ি–সহ গোটা রাজ্যবাসী ভাগ্যবান যে এই বিশেষ মুহূর্তটা আমরা দেখতে পাব। 
একরাতে সুপার মুন, ব্লু মুন, ব্লাড মুন–এর পর পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই বিরলতম ঘটনা দেখার জন্য সোয়ান–এর পক্ষ থেকে এক বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। উত্তরবঙ্গ জুড়ে ১৫টির বেশি শিবিরও করেছেন তাঁরা। দেড় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীকে এই বিশেষ ঘটনা সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫–১৮ মিনিটে শুরু হবে গ্রহণ। এর জন্য সেলেস্ট্রন সি–৮, অরিয়ন ১২০ মিমি, স্কাই ওয়াচার্স ১২০ মিমি–সহ পাঁচটি অত্যাধুনিক দূরবিনের সাহায্যে সেদিন চাঁদের নানান অবস্থান দেখা ও ক্যামেরাবন্দি করার কাজ করবেন সোয়ান–এর প্রতিনিধিরা। এ কাজে সহায়তা করছে সাহুডাঙি রামকৃষ্ণ মিশনের আবাসিকেরাও। 
কী সেই বিরল ঘটনা, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেবাশিসবাবু জানান, চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে উপবৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করার জন্য কখনও কখনও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে, আবার কখনও দূরে চলে যায়। চাঁদের এই নিকট ও দূরবর্তী অবস্থানের দূরত্বের তারতম্য হল ৩০ হাজার কিলোমিটার। এরজন্যই চাঁদকে কখনও বড় আবার কখনও ছোট দেখায়। চাঁদের এই কাছে থাকার সময় যদি পূর্ণিমা হয় তা হলে সেই পূর্ণিমাকে ‘সুপার মুন’ বলে। ‘ব্লু মুন’ মানে চাঁদের রঙ নীল হয়ে যাওয়া নয়। যদি কোনও মাসে দুটো পূর্ণিমা হয়, তা হলে দ্বিতীয় পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় ‘ব্লু মুন’। চলতি মাসের ১ তারিখ ছিল প্রথম পূর্ণিমা। ৩১ তারিখ দ্বিতীয় পূর্ণিমা। আর চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া শঙ্কুর ভেতর দিয়ে চাঁদ অতিক্রম করার সময় সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প থেকে সামান্য পরিমাণে লাল আলো প্রতিফলিত হওয়ার কারণে চাঁদ পৃথিবীর এই প্রচ্ছায়া অতিক্রম করার সময় লালচে দেখায়। একেই ‘ব্লাড মুন’ বলে। আগামী ৩১ তারিখ এতগুলো বিষয় একসঙ্গে এই মহাজাগতিক ঘটনাটিকে বিরলতম করে তুলেছে। দেবাশিস সরকার জানিয়েছেন, সেদিন সন্ধ্যাবেলায় পূর্ব দিগন্তে খালি চোখেই এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে।‌

বুধবার এই চেহারাতেই দেখা যাবে চাঁদকে।

জনপ্রিয়

Back To Top