আজকালের প্রতিবেদন: হায়দরাবাদের নৃশংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর রেশ তখন মুছে যায়নি দার্জিলিং পাহাড় থেকে। তার মধ্যেই নির্যাতনের আরেক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল শৈলশহর। স্কুলের ক্লাসঘরের মধ্যেই এক ৬ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল ৫১ বছর বয়সী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে এই অভিযোগ জমা হতেই চটজলদি ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, দার্জিলিঙে অনেক বোর্ডিং স্কুলের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর সরকারি স্কুলও। জিটিএ পরিচালিত এমনই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম লোহাগড় প্রাইমারি স্কুল। সেখানেই এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের অন্যান্য ছাত্রছাত্রী যখন ক্লাসরুমের বাইরে খেলাধুলো করছিল, সেই সময় ক্লাসঘরের মধ্যে ওই শিক্ষক এই অপকর্ম করে বলে অভিযোগ। যা গোটা পাহাড়বাসীর কাছে লজ্জাজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে নারীদের ওপর যে অত্যাচার দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিচ্ছবি পাহাড়ে দেখা যাবে সেটা ভাবতে পারেনি কেউ। এটা শৈলশহরের সম্মানে আঘাত বলেও অনেকে মনে করছেন। এদিকে পুলিশ অভিযুক্ত ৫১ বছরের শিক্ষক চন্দ্রমান খাওয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে। পস্কো আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে। দার্জিলিং থানায় নিগৃহীতা শিশুর মা অভিযোগ করেছিলেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছিল। তারপর থেকে সেটি চাপা পড়েই ছিল। শিক্ষকের অপকর্মের পর শিশুটি ঘটনা বাড়ি গিয়ে মাকে জানায়। প্রথমে মা বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে শিশুটির গোপনাঙ্গে যন্ত্রণা দেখা দিতে শুরু করে। এরপর মা বুঝতে পারেন এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি করেছেন খোদ জিটিএ নিয়ন্ত্রণাধীন প্রাইমারি স্কুল পরিচালন বোর্ডের চেয়ারপার্সন শেরিং দাহাল।‌ যদিও ‌অভিযুক্ত চন্দ্রমান খাওয়াসের পরিবারের তরফে গোটা ঘটনাকে সাজানো বলে দাবি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top