আজকালের প্রতিবেদন, মালদা, ১৭ ফেব্রুয়ারি- শেষ ইচ্ছেটা পূরণ হল না ইঞ্জিনিয়ার শচীন প্রতাপের (৩০)। এ বছর জানুয়ারি মাসে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দক্ষিণের নির্মাণকারী সংস্থা আরকেইসি–তে যোগ দিয়েছিলেন শচীন। তঁার বাবা উদয়বীর সিং এই সংস্থায় কুড়ি বছর ধরে ফোরম্যান হিসাবে কর্মরত। তঁাদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আগ্রায়। সপরিবার থাকেন দিল্লির মোহন গার্ডেনে। ২০১৬ সালে বিয়ে হয়েছিল। তিন বছরের ছেলে পরেশ প্রতাপকে স্কুলে ভর্তি করার কথা ছিল। ইঞ্জিনিয়ার শচীন তঁার বাবাকে বলেছিলেন প্রথম মাইনেটা পেয়েই ছেলেকে দিল্লির নামী স্কুলে ভর্তি করাবেন।
সোমবার ছেলের এই অপূর্ণ ইচ্ছের কথা নিজেই জানালেন উদয়বীর সিং। বলেন, ‘‌চলতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেছিল ছেলে। এখনও হাতে প্রথম মাসের বেতন পায়নি। ঘটনার আগের দিন ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল বেতন কবে আসবে। কারণ, দিল্লিতে গিয়ে নাতিকে ভর্তি করাবে বলেছিল।’‌ উদয়বীর সিংয়ের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। শচীন ছিল বাড়ির বড়। প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন বাবা। কফিনবন্দি ছেলের দেহ নিজেই কঁাধে করে নিয়ে যাবেন আগ্রার বাড়িতে।‌ সোমবার সকাল থেকেই উদয়বীরবাবুর পাশে দঁাড়িয়েছেন দ্বিতীয় ফরাক্কা সেতু তৈরির সংস্থার কর্মী ও অফিসাররা।
রবিবার রাতের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই সংস্থাটির প্রজেক্ট ম্যানেজার কে এস শ্রীনিবাসন রাওয়ের। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজমুন্দ্রির বাসিন্দা শ্রীনিবাসন রাও এই সংস্থার পুরনো কর্মী। তঁার স্ত্রী এবং দুই ছেলে সঙ্গেই থাকেন। মালদার কালিয়াচকে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকে রাও পরিবার। রবিবার রাতে দুর্ঘটনার পর স্বামীর ফোন না পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন স্ত্রী। আরকেইসি সংস্থার এক কর্মী বলেন, ‘‌শ্রীনিবাসনবাবু মারা যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে মোবাইলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরছেন। এরপরই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা।’‌ মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবারই অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মালদায় চলে এসেছেন শ্রীনিবাসনের পরিবারের সদস্যরা।

জনপ্রিয়

Back To Top