পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি, ১৭ ফেব্রুয়ারি- পোলিও খেয়ে চোখের দৃষ্টি হারাল দেড় বছরের এক শিশু। এমনই অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে রবিবার বানারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির অভিভাবকরা। যদিও চিকিৎসকদের বক্তব্য, শিশুটির চোখের রেটিনায় নিওপ্লাস্টিক টিউমার রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের ধূপগুড়ি ব্লকের দুরামারি সংলগ্ন কেরানিপাড়া এলাকায়।
দেড় বছর বয়সের ওই শিশুটির নাম দীপান্বিতা রায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। দেড় বছরের মধ্যে টিকা ও ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী তার দুই হাতে দুটো ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এর দশ মিনিট পর ফের পায়ে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তার পর ভিটামিন ‘‌এ’‌ এবং পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে আসেন তঁারা। কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশুটির ডান দিকের চোখটি লাল হতে শুরু করে। পরে একইভাবে অন্য চোখটিতেও একই সমস্যা দেখা যায়। রাতের দিকে চোখ দুটি আরও বেশি লাল হতে থাকে। পরদিন সকালে বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও দু’‌দিন রেখে চিকিৎসা করা হলেও দেখা যায় শিশুটি নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে। পরে ভাল চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয় অনেক দেরি হয়ে গেছে। শিশুটির দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা নেই।
সন্তানের চোখের দৃষ্টি হারানোর ঘটনার পর একেবারেই ভেঙে পড়েছেন শিশুটির মা পুষ্পিতা রায় বসুনিয়া ও বাবা দিব্যেন্দু রায়। তঁারা জানান, এই মুহূর্তে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন হায়দরাবাদ বা নেপালের কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে গিয়ে সন্তানের চিকিৎসা করাতে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে তঁারা এত টাকা জোগাড় করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। আইএমএ–র জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক ও জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ সুশান্ত রায় বলেন, ‘‌শিশুটির চোখের সমস্যার সমস্ত রিপোর্ট এসেছে আমার কাছে। ভাল করে খতিয়ে দেখেছি। পোলিও ভ্যাকসিনের সঙ্গে শিশুটির চোখের কোনও সম্পর্ক নেই। শিশুটির চোখের সমস্যার বিষয়টি জন্মগত। তার রেটিনায় নিওপ্লাস্টিক টিউমার জাতীয় সমস্যা রয়েছে। তাই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি আমরা।’‌‌

দৃষ্টি হারানো শিশু। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top