পঙ্কজ সরকার, মালদা, ২২ জানুয়ারি- ইংরেজবাজার পুরসভায় নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ‌মুক্ত শহর করার ডাক দেওয়া হয়েছে। পুরাতন মালদা পুরসভাতেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছু কিছু এলাকায় রমরমিয়ে চলছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও থার্মোকলের ব্যবহার। পুরকর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকলেও এখনও তা মানা হচ্ছে না বিভিন্ন জায়গায়। এই দেখে মানুষকে সচেতন করার কাজে নেমে পড়লেন একদল যুবক। কোনও সংগঠনের নয় ওঁরা। কোনও ব্যানার ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগে মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু শুধু শহরকে প্লাস্টিক ও থার্মোকল‌মুক্ত করলেই হবে না, গোটা জেলাতেই নিষিদ্ধ করতে হবে। ওই যুবকের দল এদিন শহর থেকে তাঁদের অভিযান শুরু করেন। শরৎচন্দ্র রোড থেকে বাইক র‌্যালি করেন। ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদা, হবিবপুর, বামনগোলা— এই ‌৪ ব্লক জুড়ে তাঁরা সচেতনতায় নামেন। হবিবপুর ব্লকের জগজ্জীবনপুরে গিয়ে তাঁদের অভিযান শেষ হয়। ৩৭ কিলোমিটার তাঁরা বাইক র‌্যালি করে প্রচার চালান। 
জগজ্জীবনপুরের বৌদ্ধবিহার ইতিহাস–বিজড়িত স্থান। এখন সেখানে পিকনিক স্পটও গড়ে উঠেছে। তাই গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে–‌ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ–‌সহ থার্মোকলের বিভিন্ন সামগ্রী, এমনকি মদের বোতলও। ওই যুবকেরা সেগুলি কুড়িয়ে পরিষ্কার করেন গোটা এলাকাটি। পুরাতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ যে কতটা উদাসীন, তা–ও প্রকাশ্যে এল একবার। যুবকেরা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা সামগ্রীগুলি এক জায়গায় জড়ো করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে নষ্ট করেন। জেলার শুধু ৪টি ব্লকই নয়, বাকি ১১টি ব্লকেও তাঁদের অভিযান চলবে। তাঁদের মধ্যে শঙ্কর ভাস্কর জানান, ‘‌আমরা মানুষকে বোঝচ্ছি ৪০ মাইক্রনের নিচে কোনও ক্যারিব্যাগ ব্যবহার না করার জন্য। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ মানুষের কী কী ক্ষতি করে, সেগুলিও তুলে ধরছি। পাশাপাশি থার্মোকলের সামগ্রীতে খাবার খাওয়াও যে কতটা ক্ষতিকর সেটাও বোঝানো হচ্ছে। প্রশাসন এই কাজটি শহর এলাকায় নিলেও, আমরা চাইছি গোটা মালদা জুড়ে নিষিদ্ধ হোক ক্যারিব্যাগ এবং থর্মোকলের সামগ্রী।’‌ নিজেদের উদ্যোগে নেমে যে মানুষের দারুণ সাড়া পাচ্ছেন, সে–ব্যাপারে বলতে গিয়ে মহাদেব কিশার বলেন, ‘আমরা কোনও সংগঠনের ব্যানারে এই কাজ করতে চাইনি। বন্ধুরা মিলে ঠিক করি এবং নেমে পড়ি মানুষকে সচেতনতার কাজে। আমরা রাস্তায় মানুষের সমর্থন পেয়েছি।’‌ ‌

জগজ্জীবনপুরের বৌদ্ধ বিহারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ পোড়াচ্ছেন ওই যুবকেরা। ছবি:‌ পঙ্কজ সরকার

জনপ্রিয়

Back To Top