গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ২৮ ডিসেম্বর- রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিল্পী হাট হচ্ছে শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে। নতুন বছরেই ওই শিল্পী হাটের ফটক খুলে যাবে। সব কিছু তৈরিই আছে। এখন শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘোষণার অপেক্ষা। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হতে পারে বিশ্ববাংলা শিল্পী হাটের। কলকাতার নিউ টাউনে রয়েছে এমন হাট। সেখানেই বসে রাজ্য হস্তশিল্প মেলা। শিলিগুড়ির এই শিল্পী হাটেই এবার হস্তশিল্প মেলা বসানোর উদ্যোগ। এতদিন কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা প্রাঙ্গণে মেলা বসত। এ বছর থেকে স্থায়িভাবে এই মেলা নিয়ে আসা হবে কাওয়াখালির এই শিল্পী হাটে। ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থায়ী হাট তৈরি করেছে রাজ্যের ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তর। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হস্তশিল্পীদের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ। নিউ টাউন, দুর্গাপুর ও শান্তিনিকেতনে রয়েছে এমন হাট। জেলার হস্তশিল্পীরা সেখানে জায়গা পেয়েছেন। সাধারণ হাটে যেমন কুঁড়েঘর থাকে, তেমন করেই পাকা ঘর করা হয়েছে শিল্পী হাটে। সেখানে বাঁশ, কাঠ, বেত, পাট–সহ মাটির তৈরি বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী দিয়ে সাজাবেন শিল্পীরা। এখানে বসেই কাজ করবেন তাঁরা। রাজ্যের সমস্ত জেলার শিল্পীদের এখানে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। দুটি ভাগে হাট সাজানো হয়েছে। হাটের বাঁদিকে ৬২টি ঘর। এই দিকেই মেলা বসবে। ডানদিকে ৫৮টি ঘর। এগুলিতে স্থায়ী দোকান থাকবে। হাটে শিল্পীদের থাকার জন্য রয়েছে ডরমেটরি। কাওয়াখালির এই শিল্পী হাটের বাড়তি পাওনা সাজানো ফুলের বাগান। এই বাগানে অবসর সময় কাটানো যাবে। শিলিগুড়ি শহরে ভাল পার্ক বলতে সূর্য সেন পার্ক। সেখানে কেনাকাটা কিংবা খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা নেই। শিল্পী হাটে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ১০টি খাবারের দোকানের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে চেয়ার–টেবিল পেতে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। হাটে ঢুকতেই মুক্তমঞ্চ। এখানেই হবে অনুষ্ঠান। সারা বছর যাতে এখানে অনুষ্ঠান করা যায়, তার জন্য বাড়তি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় এই হাট হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করাতে। এই হাটের ইনচার্জ সুদীপ মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুমোদন চেয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। এবার তিনি দিন ঠিক করলেই চালু করা হবে হাটটি।

ছবির মতো সেজে রয়েছে শিল্পী হাট। কাওয়াখালিতে। ছবি:‌ গিরিশ মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top